ঢাকাঃ  গত মাসে বাংলাদেশ থেকে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনে ফেরত ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়েছিল। বিশ্বের নজর যখন রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো দিকে, তখন মায়ানমারের অত্যাচার থেকে বাঁচতে কয়েকশ রোহিঙ্গা নৌকায় চড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের এই পালানোর চেষ্টায় মায়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনের ঘিঞ্জি আশ্রয়শিবিরে বসবাস করা এক লাখ ২৮ হাজারসহ অন্যান্য উদ্বাস্তু রোহিঙ্গার দিকেই সবার নজর চলে আসে। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর ভস্মীভূত করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার পর এসব ক্যাম্পে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে তদের।

রোহিঙ্গাদের দুর্দশা লাঘবে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে থাকা মায়ানমারের সু চি সরকার বলেছে-তারা ক্যাম্পগুলো বন্ধ করতে যাচ্ছে। উন্নয়নে সহায়তা ও শরণার্থীদের শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগাতে তারা এগুলো বন্ধ করছেন। কিন্তু আদৌতে তা কিছুই হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা। এতে তাদের জীবনে সামান্য উন্নতিও ঘটবে না বলে রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন।

নতুন বসতিতে যাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের অবস্থা আগের মতোই রয়েছে। স্বাধীনভাবে চলাফেরা দূরের কথা, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে এসব রোহিঙ্গাকে। ক্যাম্পের বাসিন্দারা বলেন, আনুষ্ঠানিক তল্লাশিচৌকির বিশাল নেটওয়ার্ক ও উগ্র বৌদ্ধদের সহিংসতার আশঙ্কায় মুক্তভাবে চলাফেরা করতে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে জীবিকার উৎসগুলো থেকে তারা বিচ্ছিন্ন রয়েছেন এবং মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করেই দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

মধ্য রাখাইনের নিদিন ক্যাম্পের নেতা কেইয়াও আয় বলেন, হ্যাঁ, আমরা নতুন বসতিতে যাচ্ছি। তবে এটি বললেও ভুল হবে না যে, ওই ক্যাম্প রূদ্ধ। তবে এতে করে আমরা কখনই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব না। কারণ আমাদের কোথাও যেতে দেওয়াই হচ্ছে না। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় প্রত্যয়নপত্র হাতে পাওয়ার পরও রোহিঙ্গা মুসলিমদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হচ্ছে না। অক্টোবরে মৌসুমি বৃষ্টি কমে গেলে অন্তত তিনটি নৌকায় চড়ে কয়েকশ রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষ রাখাইন থেকে মালয়েশিয়ার পথে রওনা দেন। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা যুব নেতা খিন মং বলেন, তারা যদি নৌকায় করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন, এতে প্রমাণিত হয়-রাখাইনের ক্যাম্পগুলোর অবস্থা কতটা খারাপ।