ঢাকা:  প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গাকে দেশ থেকে তাড়ানোর পর তাদের এলাকাগুলোতে ঘাঁটি তৈরি করা শুরু করেছে মায়ানমার সামরিক বাহিনী। রাখাইন রাজ্যের যে এলাকায় সামরিক ঘাঁটিগুলো তৈরি করা হচ্ছে সেখানে একসময় রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি ও মসজিদ ছিল। স্যাটেলাইট ছবি থেকে পাওয়া প্রমাণের উল্লেখ করে সোমবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এমনটাই জানিয়েছে।

গত বছরের ২৫ অগাস্ট রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের এক হামলার জবাবে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন অভিযান শুরু করে মায়ানমার সামরিক বাহিনী। তাদের দমনাভিযানের মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গাদের সাড়ে তিনশতাধিক গ্রামে আগুন লাগিয়ে সেগুলো ধ্বংস করে দেয় বাহিনী।

সোমবার অ্যামনেস্টির প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরপরও যে গ্রামগুলো রক্ষা পেয়েছিল, যে ভবনগুলো আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, সেগুলো সব বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর দ্রুত সেসব এলাকায় ভবন ও রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে অন্তত তিনটি নতুন ঘাঁটি নির্মাণাধীন রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীটি জানিয়েছে। একটি ঘটনায়, যে রোহিঙ্গা গ্রামবাসীরা মায়ানমারে রয়ে গিয়েছিলেন তাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে সেখান দিয়ে একটি ঘাঁটিতে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্স ডিরেক্টর তিরানা হাসান বলেছেন, “রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীকে নাটকীয় গতিতে ভূমি দখল করতে দেখছি আমরা। যেই নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তাদের জন্যই সেখানে আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।” স্যাটেলাইট ছবিগুলোতে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের একটি গ্রামে সীমান্ত পুলিশের পোস্টের জন্য ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে যার পাশেই একটি মসজিদ ছিল, যা সম্প্রতি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।