ফাইল ছবি

দ্য হেগ: তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মায়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যা হয়েছে, সেটা মেনে নিল আন্তর্জাতিক আদালত। জুরি বেঞ্চ বলেছে, রোহিঙ্গাদের উপর হামলা ও নির্যাতন রুখতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিক সু কির সরকার। আন্তর্জাতিক আদালতে এই রায় সাত লক্ষের বেশি দেশছাড়া রোহিঙ্গা যেমন স্বস্তিতে, তেমনই তীব্র অস্বস্তিতে নোবেল জয়ী মায়ানমারের সর্বময় নেত্রী সু কি।

রায়ে বলা রয়েছে, সংঘর্ষ কবলিত রাখাইন প্রদেশের এলাকার কোনও সাক্ষপ্রমাণ নষ্ট করা যাবে না। রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে খুন ও ধর্ষণ হচ্ছে, এই মর্মে আবেদন করেছিল আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। সেই মামলার রায়ে এই আদেশ দিয়েছে আইসিজে। রায়ে বলা হয়েছে, এখনও রাখাইন প্রদেশে এখন যে রোহিঙ্গারা আছেন, তাদেরকে সুরক্ষা দিতে হবে। রয়টার্স ও বিবিসি জানাচ্ছে এই খবর। যদিও সু কি সরকার রেহিঙ্গাদের গণহত্যার বিষয় মানতে নারাজ। কিন্তু পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৭ লক্ষ ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার দাবি, বর্মী সেনা গণহত্যা ও গণধর্ষণে,জড়িত।

সম্প্রতি এই আন্তর্জাতিক আদালতেই পাকিস্তান সরকারের মুখ পুড়েছে। ভারতীয় গুপ্তচর সন্দেহে বন্দি করা নৌ সেনার প্রাক্তন অফিসার কুলভূষণ যাদবের ফাঁসি স্থগিত করে আইসিজে। ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা’ মামলায় গাম্বিয়া সরকারের অভিযোগ, ২০১৭ সালের অগস্ট মাসে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশের (পূর্বতন আরাকান) রোহিঙ্গাদের উপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালায় সেদেশের সেনা। বর্মী সেনা গণহত্যা ও গণধর্ষণে জড়িত। যদিও মায়ানমার সরকারের দাবি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র বাহিনি ‘আরসা’ প্রথমে বর্মী পুলিশ চৌকি ও সেনার উপর হামলা চালিয়েছিল। তাদের রুখতে রাখাইন প্রদেশে সেনা অভিযান চালানো হয়।

এদিকে বর্মী সেনার অভিযান শুরু হতেই বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন থেকে লাখে লাখে রোহিঙ্গা ঢুকতে শুরু করেন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফে। রিপোর্টে বলা রয়েছে, গণহত্যার আশঙ্কায় মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ সরকার তাদের জন্য শরণার্থী শিবির চালালেও অবিলম্বে মায়ানমারে তাদের পাঠাতে চায়। চলছে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া।

তবে ঢাকার অভিযোগ, মায়ানমারের সর্বময় নেত্রী সু কি এই বিষয়ে গড়িমসি করছেন। একাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির আরও অভিযোগ, নীরব থেকে সু কি তাঁর দেশের সেনার মদতে রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা চালানোর পথ পরিষ্কার করেছেন। এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে গাম্বিয়া সরকার সরাসরি মায়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ এনে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আইসিজে-তে এই মামলা করে।