নিউ ইয়র্ক: সোমদেব দেববর্মণ, ইউকি ভামব্রি, সকেথ মিনেনি, প্রজ্ঞেশ গুণেশ্বরণের পর সুমিত নাগাল। পঞ্চম ভারতীয় হিসেবে চলতি দশকে কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের মূলপর্বে হরিয়ানার বছর বাইশের তরুণ। যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের যোগ্যতা নির্ণায়ক পর্বের ফাইনালে শুক্রবার সুমিত পরাস্ত করলেন প্যান আমেরিকান গেমসে সোনাজয়ী ব্রাজিলের জোয়াও মেনেনজেসকে। ২ ঘন্টা ২৭ মিনিটের লড়াইয়ে সুমিতের পক্ষে খেলার ফল ৫-৭, ৬-৪, ৬-৩।

তবে এই পরিসংখ্যান যতটা না তৃপ্ত করেছে তাঁকে, তার চেয়ে সুমিত অনেক বেশি তৃপ্ত হয়েছেন প্রথম রাউন্ডে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম জেনে। সোমবার আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের প্রথম রাউন্ডে সুমিতের প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবদন্তি রজার ফেডেরার। আর গ্র্যান্ড স্ল্যাম অভিষেকে সুইস টেনিস মায়েস্ত্রোকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পেয়ে উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারেননি ২০১৫ জুনিয়র উইম্বলডনে ডাবলস খেতাবজয়ী সুমিত। জানালেন, ফেডেরার টেনিসের ভগবান। উনার বিরুদ্ধে খেলতে হবে ভেবে ভীষণ খুশি।

বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে স্থান ১৯০। যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের মূলপর্বে প্রজ্ঞেশ গুনেশ্বরণের পাশাপাশি দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন সুমিত। একই গ্র্যান্ড স্ল্যামে শেষবার ১৯৯৮ উইম্বলডনে ঘটেছিল এমনটা। সেবার পুরুষদের সিঙ্গলসে দেশের হয়ে একইসঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন লিয়েন্ডার পেজ ও মহেশ ভূপতি। কিন্তু এসব পরিসংখ্যান বা রেকর্ড ছাপিয়ে সুমিত বুঁদ ফেডেরারের বিরুদ্ধে খেলার অপেক্ষায়। তবে ফাইনালের লড়াইটা খুব একটা সহজ ছিল না তাঁর জন্য। প্রথম সেটে ৫-৭ ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় সেটে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেন সুমিত। ৬-৪ বুবধানে দ্বিতীয় সেট জিতে সমতা ফেরানোর পাশাপাশি নির্ণায়ক সেট ৬-৩ ব্যবধানে জিতে মূলপর্বের টিকিট নিশ্চিত করেন হরিয়ানার এই টেনিস প্লেয়ার।

ম্যাচ শেষে পিটিআই-কে সুমিত বলেন, ‘প্রত্যেকে এই দিনটার জন্য স্বপ্ন দেখে। সব ম্যাচই কিছু না কিছু শিখিয়ে যায়। যোগ্যতা নির্ণায়ক পর্বে আমি ভালোই খেলেছি। আমি জানি না কী বলব। ভীষণ খুশি আমি।’ একইসঙ্গে গ্র্যান্ড স্ল্যাম অভিষেকে সামনে ২০ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী কিংবদন্তি ফেডেক্স। এপ্রসঙ্গে সুমিতের সংযোজন, ‘আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে রজারের বিরুদ্ধে খেলা একটা দারুণ ব্যাপার। সম্ভবত কেরিয়ারের এটাই আমার সেরা ঘটনা। আশা করেছিলাম কোনওদিন রজারের বিরুদ্ধে খেলব। উনি টেনিসের ভগবান। আমি ম্যাচটা খেলতে মুখিয়ে রয়েছি।’