মিনেইরাও: ‘অপয়া’ নীল-সাদা জার্সিটা অপয়াই হয়ে রইল লিও মেসির জন্য। ব্রাজিলের কাছে পর্যুদস্ত হয়ে কোপার সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে গেল গতবারের রানার্স আর্জেন্তিনা। অন্যদিকে গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও রবার্তো ফিরমিনোর গোলে ১২ বছর পর কোপার ফাইনালে ব্রাজিল।

তাঁর যত জারিজুরি বার্সার জার্সি গায়ে। দেশের হয়ে নীল-সাদা জার্সি গায়ে চাপালেই বোতলবন্দি হয়ে যান কিংবদন্তি লিও মেসি। বছর তিনেক আগে চিলির বিরুদ্ধে ফাইনালে টাইব্রেকারে স্পটকিক মিস করে বার্সা কিংবদন্তির অশ্রুসজল চোখ এখনও অনুরাগীদের হৃদয়ে টাটকা। এরপর বানপ্রস্থে গিয়েও ফিরে এসেছিলেন আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে নিজের এবং দেশের হয়ে ট্রফির খরা কাটাতে। কিন্তু নীল-সাদা জার্সিতে ভাগ্যদেবতা হয়তো বড়োই নিষ্ঠুর লিও মেসির ক্ষেত্রে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশের জার্সি গায়ে সম্ভবত শেষ মেজর ট্রফিটি খেলে ফেললেন বার্সেলোনার জার্সি গায়ে ৪১৯ গোলের মালিক।

আরও পড়ুন: মেসিদের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের জয় দেখছে সংখ্যাতত্ত্ব

সেখানেও বদলালো না চিত্রটা। ফের হতাশ করলেন মেসি। আটকে গেল আর্জেন্তিনাও। ঘরের মাঠে আধিপত্য নির্ভর ফুটবল খেলে আর্জেন্তিনাকে দুরমুশ করে ফাইনালে পৌঁছে গেল সেলেকাওরা। বেলো হোরাইজন্তে স্টেডিয়ামে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই এদিন শুরু থেকেই উত্তেজক রূপ নেয়। কিছুটা শারীরীক ফুটবলে ম্যাচ শুরুর প্রথম ১০ মিনিটেই দু’দল সবমিলিয়ে ১০টি ফাউল করে বসে। এরপর ৩০ গজ দূর থেকে লিওনার্দো পারেদেসের শট অন টার্গেট থাকলে পরীক্ষায় ফেলতে পারত ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে। তবে হাইভোল্টেজ ম্যাচে অপেক্ষার অবসান ঘটান গ্যাব্রিয়েল জেসুস।

আরও পড়ুন: ১৫ বছর পর বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নপূরণ ডিকে’র

১৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে রবার্তো ফিরমিনোর ঠিকানা লেখা পাস থেকে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ম্যান সিটি স্ট্রাইকার। পালটা লিও মেসির ফ্রি-কিক থেকে আগুয়েরোর হেড ক্রসবারে প্রতিহত না হলে সমতায় ফিরতেই পারত অ্যালবিসেলেস্তে। যাইহোক, মার্কারদের নজরে এড়িয়ে এরপর বারদুয়েক জ্বলে ওঠার চেষ্টা করেন মেসি, যদিও তা বিশেষ ফলপ্রসূ হয়নি। অন্যদিকে প্রথমার্ধে আর ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে পারেনি সাম্বার দেশও।

আরও পড়ুন: বাগানে ভিকুনার ক্লাস শুরু

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বা-প্রান্তিক নির্ভর ফুটবল খেলে ব্রাজিলকে চাপে রাখার চেষ্টা করে আর্জেন্তিনা। একটি ক্ষেত্রে পোস্ট ফের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তাঁদের জন্য। এছাড়া আর কোনও আক্রমণ তেমন বিপদের সঞ্চার করতে পারেনি ব্রাজিল রক্ষণে। উলটোদিকে প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলে আর্জেন্তিনা রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত রাখেন উইলিয়ান, জেসুসরা। ফলও মিলে যায় হাতে-নাতে। ৭১ মিনিটে নীল-সাদা রক্ষণকে বোকা বানিয়ে গোলমুখে আগুয়ান জেসুসের নাগাল পেতে ব্যর্থ হন দুই আর্জেন্তাইন ডিফেন্ডার। শেষমুহূর্তে গোলমুখে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা ফিরমিনোর উদ্দেশ্যে বল বাড়ালে নিরাশ করেননি লিভারপুল স্ট্রাইকার। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।

সমতা ফেরানো দূর অস্ত, বাকি সময়টা চেষ্টা করে ব্যবধানও কমাতে পারেননি লিও মেসিরা। ফলস্বরূপ জোড়া গোলে জয়লাভ করে ১২ বছর পর কোপা জয়ের স্বপ্নে বড়সড় লাফ দিল ব্রাজিল। পাশাপাশি গত ২৬ বছরে আর্জেন্তিনার মেজর ট্রফি জয়ের খরা দীর্ঘায়িত হল আরও একবার।