স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে ফের নতুন করে উত্তেজনা৷ বৃহস্পতিবার সকালে উত্তেজনা ছড়াল ভাঙড়ের পাওয়ার সাব স্টেশন সংলগ্ন শ্যামনগর মোড়ে৷ নির্মীয়মান শহিদ বেদী ভেঙে দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাস্তা অবরোধ৷ পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় অবরোধকারীরা৷ এবং ফের শুরু হয় ভেঙে দেওয়া বেদীর কাজ৷

জমিরক্ষা কমিটির সদস্য মির্জা হাসান জানান, পাওয়ার গ্রিড নিয়ে ভাঙড় আন্দোলনে বেশ কয়েকজন শহিদ হয়েছেন৷ আগামী ১৭ জানুয়ারি পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনকারীরা তিন শহিদকে সম্মান জানাবে৷ তার জন্য নতুন হাট মোড়, কামারবাড়ি মোড় ও শ্যামনগর মোড়ে তিনটে শহিদ বেদী নির্মাণ করার কাজ শুরু হয়েছে। তার মধ্যে শ্যামনগরের নির্মীয়মান বেদীর কিছুটা অংশ রাতের অন্ধকারে ভেঙে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ৷ বিষয়টি বৃহস্পতিবার সকালে কমিটির লোকজনের নজরে আসতেই নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়৷ চলে রাস্তা অবরোধ৷

আরও পড়ুন : স্কুলবাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ, অত্যাচারের শিকার পড়ুয়ারা

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে কাশীপুর থানার পুলিশ৷ দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের পুলিশি আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে৷ পুলিশের উপস্থিতিতেই ফের বেদীর কাজ শুরু হয়৷ ঘটনার পর এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী৷ অন্যদিকে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে লিখিত চুক্তি অনুযায়ী জোর কদমে শুরু হয়েছে এলাকা উন্নয়নের কাজ৷

গত মাসে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল পাওয়ার গ্রিডের কাজ৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই কাজে বাধা দেয়৷ ফলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল৷ কমিটির দাবি, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে লিখিত চুক্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, পাওয়ার সাব স্টেশনের অসমাপ্ত কাজের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নের কাজ করতে হবে৷ কিন্তু ভাঙড়ে সাব স্টেশনের কাজ যতটা গতিতে চলছে ততটাই ঢিমেতালে চলছে এলাকার উন্নয়নের কাজ৷

তাই ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা পাওয়ার সাব স্টেশনের কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল৷ এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী এলাকার স্কুল,হাসপাতাল ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করার কথা৷ এছাড়া বিদ্যাধরী নদীর সংস্কার, নদীর বাঁধ মেরামত, এলাকার কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জন্য হিমঘর তৈরি ইত্যাদি৷ জমি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যে মামলা রয়েছে তা প্রত্যাহার করা ও দুষ্কৃতী দমন৷ এর সব কিছু নিয়েই সরকার এখন টালবাহানা করছে৷ এরপর জমিরক্ষা কমিটির সঙ্গে প্রশাসনের দু’বার বৈঠকে কিছুটা সমস্যার সমাধান হয়৷