পূর্ব বর্ধমান :- মেমারি থানার পালশিট এলাকায় জাতীয় সড়কে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের ৪ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের নাম বাদল সরকার (৪০), বিশ্বজিৎ সামুই (৫০), প্রবীর হাটি (৫২) ও অনুপ বালা (৪২)। বর্ধমান শহরের বিধানপল্লি এলাকায় বাদলের বাড়ি। হুগলির গোঘাট থানার শ্যামবাটিতে বিশ্বজিৎ-এর বাড়ি। হুগলির আরামবাগ থানার উত্তর রসুলপুরে প্রবীরের বাড়ি। উত্তর ২৪ পরগণার টিটাগড় থানার শান্তিনগরে অনুপের বাড়ি। তাঁরা সকলেই জেলা পুলিসের এমটি সেকশনের কর্মী ছিলেন।

ঘটনায় জেলা পুলিশ মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান অতিরিক্ত পুলিস সুপার (হেড কোয়ার্টার) প্রিয়ব্রত রায় সহ অন্যান্য পুলিস আধিকারিকরা। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের পুলিস মর্গে ময়না তদন্তের পর মৃতদেহগুলি পুলিস লাইনে এমটি সেকশনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মরদেহে মালা দেন পুলিসের আধিকারিকরা। সেখান থেকে মৃতদেহগুলি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার কালীপুজোর দিন রাতে মেমারি থানার পুজো দেখতে যান ওই চারজন। সেখান থেকে রাত পৌনে ১২টা নাগাদ তাঁরা বর্ধমানে ফিরছিলেন। পালশিট ওভারব্রিজের কাছে একটি বালি বোঝাই লরি আচমকা ব্রেক কষে। নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে পুলিস কর্মীদের গাড়িটি লরিটির পিছনে ধাক্কা মারে। পুলিস কর্মীদের গাড়িটির সামনের দিক দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গ্যাস কাটারের সাহায্যে দরজা কেটে জখম ৪ পুলিসকর্মীকে উদ্ধার করে বর্ধমানের বামবটতলার অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আনা হয়। সেখান থেকে তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

চিকিৎসক বাদল, বিশ্বজিৎ ও প্রবীরকে মৃত ঘোষণা করেন। ভরতির কিছু্ক্ষণ পর মারা যান অনুপ। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিস সুপার সহ বিভিন্ন পুলিস আধিকারিকরা হাসপাতালে হাজির হন। খবর পেয়ে মৃতদের পরিজন ও প্রতিবেশীরা হাসপাতালে হাজির হন। ময়না তদন্তের পর ৪টি শববাহী গাড়িতে দেহগুলি পুলিস লাইনে এমটি সেকশনে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ বালি বোঝাই লরিটি বাজেয়াপ্ত করেছে। তবে, চালক পলাতক। কিভাবে দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এসডিপিও (সদর) বলেন, লরিটি আচমকা ব্রেক কষলে পুলিশ কর্মীদের গাড়িটি সেটির পিছনে ধাক্কা মারে।