ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত৷

শ্রীনগর: বয়স মাত্র ৩৩৷ এখনই তার মাথার দাম ১২ লক্ষ টাকা৷ সেই রিয়াজ নাইকু এবার কুখ্যাত জঙ্গি জাকির মুসার জুতোয় পা গলাতে চলেছে৷ যার অর্থ, জাকিরের হয়ে কাশ্মীরে অশান্তির বাতাবরণ জিইয়ে রাখা, সংগঠনে স্থানীয় কাশ্মীরিদের যোগদান বাড়ানো এবং আরও নাশকতামূলক ঘটনা ঘটানোই হবে তার লক্ষ৷

বৃহস্পতিবার ত্রালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ঝাঝরা হয়ে যায় আল কায়েদা জঙ্গি জাকির মুসা৷ হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি বুরহান ওয়ানির সঙ্গে তার দারুণ সম্পর্ক ছিল৷ তিন বছর আগে এনকাউন্টারে বুরহানের মৃত্যু হয়৷ বুরহানের ছেড়ে যাওয়া সামাজ্র্যের রাশ নিজের হাতে তুলে নেয় মুসা৷

সেই মুসার মৃত্যু নিঃসন্দেহে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে সবথেকে বড় সাফল্য৷ আর জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে বড় ধাক্কা৷ কাশ্মীর পুলিশ মেনে নিচ্ছে, মুসার বিকল্প কাউকে খুঁজে পাওয়া অত সহজ হবে না৷ তাই রিয়াজকে এত তাড়াতাড়ি মুসার জায়গায় নিয়ে আসা হলেও প্রশ্ন উঠছে কতটা সে মুসার সমান যোগ্য হয়ে উঠতে পারবে?

মুসার মতো রিয়াজ আল কায়েদার সদস্য নয়৷ তবে পাক মদতপুষ্ট হিজবুল মুজাহিদিনের শীর্ষ কমান্ডার৷ এক সময় এই সংগঠনের হাত ধরে সন্ত্রাসের রাস্তায় নামে মুসা৷ কিন্তু তাদের কার্যকলাপে বিরক্ত হয়ে শিবির বদলায়৷ এবং নাম লেখায় আল কায়েদায়৷ মুসার সঙ্গে রিয়াজের মিল এক জায়গায়৷ দু’জনেই পুলওয়ামা জেলার বাসিন্দা৷ তবে রিয়াজের বাড়ি অবন্তিপোরায়৷

রিয়াজ সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য হাতে পেয়েছে সেনা৷ মেধাবী ছাত্র রিয়াজ অংক নিয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করেছে৷ টেকনোলজির ব্যবহার সম্পর্কে খুবই দক্ষ৷ মুসা হিজবুল ছেড়ে দেওয়ার পর অচিরেই রিয়াজকে সেই শূন্যতা পূরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ দ্রুত সে মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির তালিকায় ঢুকে পড়ে৷ তাকে এ++ লেভেল ক্যাটাগরির জঙ্গির তালিকায় রাখা হয়৷

 

একের পর এক ভিডিওতে কাশ্মীরের যুবকদের নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগ না দেওয়ার বার্তা ছড়িয়ে দেয়৷ এই সব ভিডিও ক্লিপিংয়ের মাধ্যমে যুব সমাজকে ভয় দেখানো হত৷ মুসার দলবদলের পরেও হিজবুল মুজাহিদিনে জঙ্গি নিয়োগ প্রক্রিয়া থেমে থাকেনি৷ রিয়াজের দৌলতে হিজবুলে স্থানীয় শিক্ষিত কাশ্মীরি যুবকদের যোগদানের সংখ্যা বাড়তেই থাকে৷ এখন দেখার মুসার মৃত্যুর পর রিয়াজ কতটা সেই জায়গা ধরে রাখতে পারে৷