স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচারই সার। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রনে সাধারণ মানুষ যে এখনও পুরোপুরি সচেতন হয়ে উঠতে পারেনি তা প্রমান করে প্রতিবারের দুর্গা উৎসব। কারন এই দুর্গা পুজোর পরে শহর এবং জেলার বিভিন্ন নদী গুলিতে পুজো কমিটি গুলির পক্ষ থেকে প্রতিমা বিসর্জন করে দেওয়া হয়। জলে প্রতিমা ভাসান দিয়েই সেই বছরের মত কাজ শেষ হয়ে যায় পুজো কমিটি গুলির। এরপরে নদী থেকে প্রতিমার কাঠামো,বাঁশ এবং খড় না তোলায় প্রতিবারই পুজোর পরে নদী গুলিতে দূষণের মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। পুজোর সময় গঙ্গা নদীর পাশাপাশি একই অবস্থা হয় জেলার বিভিন্ন নদী গুলিতে।

জানা গিয়েছে, গত ৯ অক্টোবর দশমীর দিন আত্রেয়ী নদীতে দূর্গা প্রতিমার বিসর্জন মেলা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশ ছিল বিসর্জনের পর ঘাট গুলি পরিষ্কার করে দেওয়ার। কিন্তু মাঝে আত্রেয়ী দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গিয়েছে। আজও শহর লাগোয়া সদরঘাট থেকে শুরু করে চকভবানী ঘাট পর্যন্ত নদীর বহু জায়গায় ভেসে রয়েছে খড় মাটি, সাজের কাপড় সহ ও কাঠামো গুলি। যা থেকে দূষিত হচ্ছে আত্রেয়ী নদী। জানা গিয়েছে শুধু এই নদীই নয় একই অবস্থা শহরের বিভিন্ন রাস্তারও।

সূত্রের খবর, নেলসন ম্যান্ডেলা সরণির জলযোগ মোড়ের নিকট গত পাঁচদিন ধরে মাটির বেশ কয়েকটি মডেল পড়ে থাকলেও তা সরানোর জন্য কোনও লোক নেই। এদিকে বালুরঘাট পৌরসভাকে দ্রুত প্রতিমার কাঠামো ও আবর্জনা পরিষ্কার করে দূষণের হাত থেকে আত্রেয়ী নদীকে বাঁচানোর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শহরবাসী।

এইব্যাপারে বালুরঘাটের বাসিন্দা অজয়শংকর ঘোষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিনই বালুরঘাট তথা জেলার কোথাও না কোথাও নদী তথা পরিবেশ নিয়ে চলছে নানান কর্মসূচী’। তিনি আরও বলেন সে সবই যে শুধুই ঢক্কানিনাদ তা বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীর ঘাটে গেলেই স্পষ্ট হয়ে যায়। দশমী চলে গেলেও প্রতিমার কাঠামো ও সাজের সামগ্রী না তুলে ফেলায় নদী দূষিত হয়ে রয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করে জানিয়েছেন, পরিবেশ সচেতক বিভিন্ন সংস্থা ও পুরসভা থাকলেও নদী থেকে তা সরানোর কেউ নেই। আত্রেয়ী নদীর দূষণ নিয়ে নাট্যকর্মী জ্যোতিব্রত চক্রবর্তী অভিযোগ করে বলেন, ‘শহরের রাস্তার ধারে ধারে প্রতিমার বিভিন্ন মডেল পড়ে থেকে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ করছে’। ‘অন্যদিকে সেগুলির জন্য দুর্ঘটনাও বাড়ছে’। তিনি আরও বলেন, এইব্যাপারে বালুরঘাট পুরসভার উচিত নদী ও রাস্তার ধারে পড়ে থাকা প্রতিমার কাঠামো ও আবর্জনা গুলি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরিয়ে বালুরঘাটের পরিবেশকে দূষণ মুক্ত রাখা।

এই বিষয়ে বালুরঘাট পুরসভার বোর্ড মেম্বার তথা প্রাক্তনমন্ত্রী শংকর চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, যে দশমীর রাতেই আত্রেয়ীর সদরঘাট পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তুপরে বিক্ষিপ্ত ভাবে কয়েকটি ক্লাবের প্রতিমা বিসর্জন হয়েছিল। ফলে সেগুলির কাঠামো নদীতে পড়ে থাকতে পারে বলে দাবি জানিয়েছেন তিনি। এছাড়াও মঙ্গলবারের মধ্যে সেগুলি নদী থেকে তুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি শহরের রাস্তার ধারে মডেল গুলি কোন মণ্ডপের তা খুঁজে বের করে সেই পুজো কমিটিকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।