সুজয় পাল, কলকাতা: আর্মেনিয়ান ঘাটে গুদামে আগুন নিভে আসতেই মা গঙ্গার স্মরণে প্রণাম সারলেন দমকলকর্মীরা৷ গঙ্গা না থাকলে কী যে হত, তা ভেবে শিউরে উঠছেন দমকলের অফিসার থেকে কর্মী সকলেই৷

মঙ্গলবার রাতে আর্মেনিয়ান ঘাটে যে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল তাতে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতীর সম্ভাবনা ছিল৷ গুদাম ভর্তি ডিজেল ও রাসায়নিকের ব্যারেলে আগুন লাগায় মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল৷ কয়েক ফুট দূরেই ছিল বসতি এলাকা৷ তার উপরে হাওয়ার দাপট৷ সবদিক থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সবরকম রাস্তা তৈরিই ছিল৷ কিন্তু আগুন গুদামের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি৷ স্থানীয় বাসিন্দারা এর জন্য দমকলকে ধন্যবাদ দিলেও, তাঁরা কিন্তু কৃতজ্ঞ গঙ্গার কাছে৷ কারণ, একদম গঙ্গার পাড়ে এই গুদামের অবস্থান থাকায় নদীর জল ত্রাতা হিসেবে কাজ করেছে৷ ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি৷

যে সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তখন গঙ্গায় ভাঁটা থাকলেও অফুরন্ত জলের জোগানেই আগুনের বাড়বাড়ন্ত প্রায় তিনঘণ্টার মধ্যেই আয়ত্তে আনা সম্ভব হয়েছে৷

দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন, ডিজেলের মতো দাহ্য পদার্থে ঠাসা গুদামে আগুন লাগায় তার তীব্রতা ছিল ভয়ঙ্কর৷ প্রায় দোতলা সমান উচ্চতায় উঠে গিয়েছিল আগুনের শিখা৷ তার উপর মাঝেমধ্যেই গুদামে ডিজেলের ব্যারেলে বিস্ফোরণ ঘটায় বিপদের আশঙ্কা ছিল৷ দমকলের মোট ২৫টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে আগুন নেভানোর কাজ করলেও, এত বড় অগ্নিকাণ্ড হিসেবে সেই সংখ্যাটি নগন্য৷ ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক দমকলকর্মীর বক্তব্য, ‘‘এক্ষেত্রে আগে চারদিক থেকে জল দিয়ে আগুনকে ছড়াতে না দেওয়াটাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল৷ সেজন্য গুদামের সামনের দিকে দমকলের গাড়ি থেকেই জল দেওয়া হয়েছে৷ তবে পিছনের দিকে দমকলের পক্ষে পৌঁছনো সম্ভব ছিল না৷ তাই পোর্টেবল পাম্প এনে গঙ্গা থেকে জল তুলে আগুন নেভানো হয়েছে৷ অফুরন্ত জলের জোগান পাওয়ার জন্যই আগুন ছড়াতে পারেনি এবং তুলনামূলক কম সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে৷ এত বড় আগুন এত কম সময়ে আয়ত্তে আনতে পারব আমরাও ভাবিনি৷ এটা মা গঙ্গার আশীর্বদ৷’’

পুলিশ সূত্রে খবর, আর্মেনিয়ান ঘাটে যে গুদামে আগুন লেগেছিল সেটি একটি বেসরকারি সংস্থাকে লিজে দিয়েছিল পোর্ট ট্রাস্ট৷ সেখানে ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের পাশাপাশি একটি পরিবহণ সংস্থার বিভিন্ন ধরণের জিনিস মজুত থাকত৷ মাসখানেক আগে গুদামটি সিল করে দেওয়া হয়৷ তারপরেও সেখানে কী করে আগুন লাগল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷ এর পিছনে অন্তর্ঘাত রয়েছে কিনা তা জানার জন্য এদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞেরা৷