কলকাতা- এবার আর বাড়ির ব্যালকনি থেকে হাততালি ও ঘণ্টা বাজানো নয়। শুক্রবার সকাল ৯টায় এসে নতুন নিদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ৫ এপ্রিল রাত ৯টায় ৯ মিনিটের জন্য বাড়ির আলো বন্ধ করে ব্যালকনিতে গিয়ে মোমবাতি বা প্রদীপ জ্বালাতে। মোবাইল বা টর্চের আলোও জ্বালানো যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। করোনার মোকাবিলায় যাঁরা লড়ছেন তাঁদের সম্মান জ্ঞাপন করতে এবং সকলে একসঙ্গে রয়েছে এই বার্তা দিতে আবেদন করেছেন তিনি।

কিন্তু অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, তিনি এই আবেদন পালন করবেন। সঙ্গে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে তাঁর ভক্তদেরও প্রধানমন্ত্রীর এই নিদান পালন করতে বলেছেন অভিনেত্রী। ঋতুপর্ণা বলছেন, ৫ এপ্রিল রাত ৯ টায় ৯ মিনিটের জন্য চলুন সকলে প্রধানমন্ত্রীর আবেদন মেনে একটা দিয়া, মোমবাতি কিংবা টর্চ জ্বালাই। এটা বুঝিয়ে দি, যে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়ছি এবং তা ভালোর জন্য।

আমরা শীঘ্রই আবার সুন্দর দিন দেখতে পাব। তাই আমরা সকলে আলো জ্বালাব, বৈদ্যুতিন আলো বন্ধ করে। আর এই আলোই আমাদের পথ দেখাবে। সারা বিশ্ব একটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এই যুদ্ধ জিততেই হবে। তাই বাড়িতে নিরাপদে থাকুন। মাস্ক ব্যবহার করুন, হাত ধুয়ে নিন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটাও নিশ্চয় প্রধানমন্ত্রীই বলে দেবেন।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই নিদানকে একেবারেই সমর্থন করছেন না টলিউডের আর এক অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। একটি টুইট করেন স্বস্তিকা। সেখানে যৌনকর্মীদের একটি ছবি ও একজনের টুইট শেয়ার করেছেন স্বস্তিকা। দেখা যাচ্ছে যৌনকর্মীদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ১০০ ফুটের একটি বেঞ্চ। সেখানেই পালা করে তারা ঘুমোচ্ছেন তাঁরা। লকডাউনে তাঁদের খাবার, জল কিছুই জোটেনি। স্বস্তিকা রিটুইট করে লিখেছেন, দেশবাসীকে এক হয়ে করোনামুক্ত ভারত গড়ার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু যাঁদের বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁরা কী করেই বা মোবাইলের আলো জ্বালবে? মোমবাতি জ্বালবে। ও! যৌনকর্মীদের বেঁচে থাকার জন্য তো শুধু সেক্সটাই তো প্রয়োজন। উল্লেখ্য, প্রধামন্ত্রীর এই আবেদনের পরেই নেটিজেনরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যান। একদল বলেন, তাঁরা আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা শুনবেন বলে আশা করেছিলেন। আর হাততালি-ঘণ্টার দিনের মতোই এদিনও রাস্তায় মানুষ ভিড় করবে বলে ধারণা তাঁদের। আবার অন্যদিকে মোদীভক্তরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বলেছেন তার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে।