সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি নাকি গ্রীক দেবতা। তিনি সুপারস্টার। গত দুই দশক ধরে তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ করে আসছে দেশের মানুষকে। মুম্বই কাঁপিয়েও এই সুপারস্টার গ্রীক দেবতা আদতে মহানায়কের ‘প্রতিবেশী’। তিনি ঋত্বিক রোশন। ‘কহোনা প্যয়ার হ্যাঁয়’ বললে এই শহর তাই তাঁকে আজও আপন করে নেয়। বাড়িয়ে দেয় ভালবাসার হাত।

 

তখনও Y2K শব্দটি প্রবেশ করেনি কলকাতার অভিধানে। তখনও কলকাতায় ছিল ল্যান্ডলাইনের মিসকল দেওয়া প্রেম। লুকিয়ে সিগারেট খাওয়া বা সন্ধ্যা বেলার লোডশেডিং কিংবা পাড়ার রকে আড্ডা। সেই সময়েই ভবানীপুরে দিদার বাড়িতে মাছে ভাতে বড় হচ্ছে এক আমচি মুম্বইওয়ালা। স্কুলে ছুটি থাকলেই বাবার সঙ্গে দিদার বাড়িতে চলে আসতেন ঋত্বিক রোশন। গায়িকা দিদার বাড়িতে নাতির খাতিরই আলাদা। মাছ, মিষ্টি আর ভালোবাসায় নাতিকে মুড়িয়ে রাখতেন ইরা রোশন লাল নাগরথ।

এই নাম বিবাহ সূত্রে। আসলে তিনি মৈত্র। যখনই কলকাতা এসেছেন ঋত্বিক তখনই বারবার স্মৃতি রোমন্থন করেছেন ঠাকুমার কথা। তিনি একবার সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, “আমার সঙ্গে এই শহরের একটা দারুণ যোগ রয়েছে। আমি হতে পারি মুম্বইয়া কিন্তু বাঙালির রক্ত আমার শরীরেও রয়েছে। দিদার ভবানীপুরের বাড়ির দিনগুলো আমি কোনওদিন ভুলব না। রসগোল্লা মাছ। এসব ভোলা যায় না। সঙ্গে সবার ভালোবাসা।” এই ভবানীপুরেরই বাসিন্দা মহানায়ক উত্তম কুমার। আর এভাবেই আরব সাগরের সুপারস্টারের সঙ্গে কোথাও যেন মিলে গিয়েছে ‘গ্রীক গড’ ঋত্বিকের জীবন। তাঁরা যে ‘পাড়াতুতো’।

২০০০ সাল, মুক্তি পেয়েছে ছোটবেলায় কথা বলতে গিয়ে তুতলে যাওয়া ছেলেটার প্রথম ছবি। আসমুদ্রহিমাচল ভাসছে ‘কহোনা প্যায়ার হ্যাঁয়’-এর জোয়ারে। তালিকায় কলকাতাও ছিল। ছেলে ঋত্বিককে লঞ্চ করেছেন বাবা রাকেশ রোশন। কিন্তু দিদা ইরার বড় ইচ্ছা ছিল নাতি প্রথম স্টেজ পারফর্মেন্স হবে কলকাতায়। রাকেশ দিদার ইচ্ছা পূরণ করেছিলেন। কলকাতাতেই প্রথম স্টেজ শো করেন ঋত্বিক রোশন।

আর গ্রীক গড? একটা ছবি তাঁকে এই তকমা দিয়ে দেয়। সঞ্জয় লীলা বনশালির গুজারিশ ছবিতে তাঁর কোঁকড়ানো চুল, দাড়ি এবং খয়েরি চোখের মণি তাঁকে বানিয়ে দেয় গ্রীক গড। তারপর তিনি কখনও আকবর, কখনও সুপার পাওয়ার কৃষ কখনওবা এক চোরের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। সামনেই পর্দা কাঁপাতে আসছে তাঁর ‘সুপার থার্টি’ ছবি যেখানে তিনি এক অঙ্কবিদের চরিত্রে অভিনয় করছেন। কিন্তু গ্রীক গড আর ভবানীপুর যোগে ভাটা পড়েনি।