স্টাফ রিপোর্টার, হুগলি: এক সময় হুগলি শিল্পাঞ্চলের অন্যতম স্থান ছিল রিষড়া। যেখানে ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের কল-কারখানার ভান্ডার ছিল। প্রতক্ষ্য ও পরোক্ষভাবে রুজি-রোজগার জুটত লক্ষাধিক মানুষের। কালক্রমে জেলায় স্বমহিমায় চলতে থাকা কারখানাগুলি রুগ্ন থেকে রুগ্নতর শিল্পে পরিণত হতে হতে একসময় তালাবন্ধ হয়েছে। যার মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে বেশ কিছু জুটমিল৷

অন্যদিকে যার সব থেকে বড় উদাহরণ সাহাগঞ্জের ডানলপ ও রিষড়ার পাশে থাকা বহুল প্রচারিত অ্যাম্বসেডর গাড়ির ইঞ্জিন তৈরির হিন্দমোটর কারখানা। বর্তমানে বড় শিল্প বলতে ছিল রিষড়ার আদিত্য বিড়লা গ্রুপের জয়শ্রী টেক্সটাইল। যেখানে কর্মচারীর সংখ্যা ছিল প্রায় পনেরো হাজারেরও বেশি। রিষড়ার অর্থনৈতিক ব্যবস্থার একটা বড় হাতিয়ার ছিল এই কাপড় কল। কিন্তু দিন এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই কারখানাতেও শুরু হয়েছে শ্রমিক অসন্তোষ।

বহুদিন ধরে টানাপোড়েন চলার পর অবশেষে কয়েকদিন আগে এই কারখানাও বন্ধ হয়ে যায়। আর এবারে আর পাঁচটি কারখানার মত সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক অর্থাৎ কর্মবিরতি নয় একেবারে লকআউটের নোটিশ ঝুলিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে ফের আরও একবার অনিশ্চিত হয়ে পড়ল বহু মানুষের ভবিষ্যত। অনেকের মতে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন দেশ-বিদেশ থেকে শিল্প আনার জন্য ছোটাছুটি করছে তখন এই ধরনের ঘরোয়া শিল্পের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বাইরের কোম্পানিগুলি কি সত্যিই এরাজ্যে আসতে রাজি হবে?

বর্তমানে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে জেলার বিভিন্ন মহলে। আবার কারওর কারওর বক্তব্য, ‘দিদি’ নতুন কারখানার দিকে না ঝুকে পুরনো কারখানাগুলি খোলার ব্যাপারে আগ্রহী হলে ভালো হয়। পাশাপাশি রিষড়াবাসীরও তাই মত। অন্তত জয়শ্রীর ক্ষেত্রে বিশেষ করে। না হলে বহু মানুষ কাজ হারিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে আবারও৷ আশঙ্কা, এই বন্ধ কারখানা ঘিরে বেড়ে উঠবে দুষ্কৃতীরাজ।

এলাকার তৃণমুল শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য, ‘আমরা চাই আগে কারখানা খুলুক৷ তারপর আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক।’ এখন দেখার বিষয় সরকারি হস্তক্ষেপে সদ্য বন্ধ হওয়া জয়শ্রীতে জান ফিরে আসবে নাকি অচিরেই হুগলি জেলার হারিয়ে যাওয়া শিল্পাঞ্চলের তালিকায় আরও একটি নাম সংযোজিত হবে?

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV