সুশান্ত মণ্ডল: বাবা’র চাকরির সুত্রে দেশ ছেড়েছেন৷ কিন্তু ক্রিকেট ছাড়েননি৷ কলকাতার সিঁথির মোড়ের ছেলে ঋষভ মুখোপাধ্যায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য৷ দুবাইয়ে এমএস ধোনির ক্রিকেট অ্যাকাডেমি থেকে আমিরশাহীর জাতীয় দলে বছর আঠারোর এই বাঙালি ক্রিকেটার৷

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে এশিয়া কোয়ালিফায়ার খেলতে বুধবার আমিরশাহী দলের সঙ্গে মালয়েশিয়া রওনা হয়েছন ঋষভ৷ কিন্তু ভবিষ্যেতে টিম ইন্ডিয়ার জার্সিটা গায়ে চাপাতে চান প্রতিশ্রুতিময় এই বাঙালি অফ-স্পিনার৷ সুদূর মালয়েশিয়া থেকে ফোনে ঋষভ জানান, ‘বাবার চাকরির জন্য দুবাইয়ে থাকি৷ দু’ বছর ধরে এখানে এমএস ধোনির ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে প্র্যাকটিস করি৷ আমিরশাহীর অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলতে পেরে গর্বিত৷ বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে ভালো কিছু করাই লক্ষ্য৷’

আমিরশাহী দলের জার্সিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঋষভ৷

বাবা’র চাকরির সুত্রে মাত্র ছ’ বছর বয়সে দেশ ছেড়েছেন৷ দুবাইতে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ থেকে আইসিসি-র দু’ বছরের স্কলারশিপ পেয়ে আমিরশাহীর জাতীয় দলে উত্তরণ ঋষভের৷ কিন্তু অন্য দেশের হয়ে খেলার মোটিভেশন কীভাবে পান? সদ্য প্র্যাকটিস শেষ করে উঠে ঋষভ ফোনে জানান, ‘আমার লক্ষ্য ভারতের হয়ে খেলা৷ এটা তার প্রথম ধাপ বলতে পারেন৷ আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মুলপর্বে আমরা কোয়ালাফাই করতে পারলে ক্রিকেটবিশ্বের সামনে নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ পাব৷’

কিন্তু ভারতের খেলার জন্য ক্লাব ক্রিকেট থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করতে হয়৷ সেই পথেই এগোতে চান ঋষভ৷ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আমিরশাহী দলের এই বাঙালি ক্রিকেটার জানান, ‘প্রথমে কলকাতা থেকে ক্লাব ক্রিকেট খেলে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট ঢুকতে চাই৷ সেখান পারফর্ম করতে পারলে দেশের হয়েও খেলার সুযোগ পেতে পারি৷’

আমিরশাহী অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে ঋষভ৷

গত মরশুমে ওয়াইএমসিএ-র হয়ে সিএবি লিগ খেলার কথা ছিল ঋষভের৷ কিন্তু আমিরশাহীর জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া তা হয়ে ওঠেনি৷ কিন্তু সুযোগ পেলে আগামী বছর সিএবি লিগে কোনও না কোনও ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করতে চান ঋষভ৷ তবে মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গল নয়, সুযোগ পেলে ভবানীপুর ক্লাবের হয়ে মাঠে নামতে চান আমিরশাহী দলের এই বাঙালি ক্রিকেটার৷’ দুবাইয়ে থাকলেও আইপিএলে মন পড়ে থাকে ঋষভের৷ ভবিষ্যতে আইপিএল খেলার স্বপ্নও রয়েছে তাঁর৷ পছন্দের দল অবশ্যই নিজের শহর কলকাতা৷

ডানহাতি এই বাঙালি অফ-স্পিনারের আইডল অস্ট্রেলিয়ার অফ-স্পিনার নাথান লায়ন৷ কিন্তু হরভজন সিং, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো বড় অফ-স্পিনার থাকতে লায়ন কেন? উত্তরে ঋষভের সপ্রতিভ উত্তর, ‘লায়নের ট্র্যাডিশনাল অফ-স্পিনটাই আমার ভালো লাগে৷ ও বেশি পরীক্ষানিরীক্ষায় যায় না৷ আমিও এখন শুধু অফ-স্পিনটাই করতে চাই, কোন দুসরা বা ক্যারাম বল নয়৷’