মৌমিতা পোদ্দার: প্লাস্টিক দূষণে জেরবার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রবাল দ্বীপ। মানুষের লাগামছাড়া জীবনযাপন এবং অনৈতিক কর্মকান্ডের জেরে আজ প্রায় ধ্বংসের মুখে এগিয়ে চলেছে আলডাব্রা প্রবাল অ্যাটলটি।

‘আলডাব্রা প্রবাল অ্যাটল’ দক্ষিণ আফ্রিকা মহাদেশের রাজধাী ভিক্টোরিয়ার দক্ষিণে ১,১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভারত মহাসাগরের বৃহত্তম প্রবাল দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ও অসংখ্য বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক জীবের প্রধান আবাসস্থল এই দ্বীপ আজ প্লাস্টিকের গর্ভে নিম্মজিত। প্লাস্টিক দূষণ এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে, এই দ্বীপের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা একটি ক্লীনআপ পোগ্রামে এই দ্বীপ থেকে ২৫ শতাংশ প্লাস্টিক সরিয়ে নিয়েছিল। আর যা ছিলো ওই দ্বীপের মোট প্লাস্টিকজাত আবর্জনার মাত্র ৫ শতাংশ।

আর এই পরিস্কারের কাজে মাত্র ১২ জন স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে ৫ সপ্তাহে মোট ৯৮০ ঘন্টা কাজ করেও পুরো দ্বীপটিকে পরিস্কার পরিছন্ন করা যায়নি। যদিও এই কাজে প্রায় ২২৪,৫৩৮ ডলার অর্থও ব্যায় করেছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এটিই ছিলো পৃথিবীর মধ্যে সবথেকে একটি ভয়ংকর দ্বীপ। যার চারিদিকে শুধুই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্লাস্টিকের আবর্জনার স্তুপ।

জানা গিয়েছে, আলডাব্রা প্রবাল অ্যাটলের ১৫০ বর্গমাইল এলাকা সম্পূর্ন পরিস্কার করতে খরচ পড়বে ৩. ৬ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও কাজটি শেষ করতে প্রায় ১৮,০০০ ঘন্টা সময় লাগবে বলে তাঁরা জানান। তবে যেভাবে প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য পদার্থেে ভরে গিয়েছে এই দ্বীপ তাতে অ্যালডাব্রা অ্যাটলের সামুদ্রিক এবং উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান রক্ষার জন্য ক্লিন আপ অপারেশনে সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে অর্থ সরবরাহ করা উচিত।

এদিকে ভয়ংকর রকম দূষণের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই দ্বীপের গাছপালা,পশুপাখি সহ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র। প্লাস্টিক দূষণের কারণে জীবনহানির সংকট দেখা দিয়েছে এই দ্বীপে বসবাসকারী অসংখ্য কচ্ছপের। এছাড়াও জল দূষণের জন্য সামুদ্রিক মাছ মরে যাওয়ায় জীবন ও জীবিকায় সংকট দেখা দিয়েছে এখানকার স্থানীয় মৎসজীবিদের।

তবে বিষয়টি এখন থেকেই যদি গুরুত্ব সহকারে না দেখা হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে সমগ্র মানবজাতির জন্য বইয়ে আসবে আরও বড় কোনও বিপদ। যারফলে পরিবেশ রক্ষায় আমাদের এখন থেকেই আরও সর্তক হওয়া উচিত বলে মনে করছেন অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।