ঢাকা: প্রকাশ্যে স্বামী রিফাতকে ঘিরে কয়েকজন মিলে তলোয়ার চালিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাচ্ছে। আর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি তাদের সঙ্গে লড়ছে। বরগুনায় যেভাবে গতবছর ২৬ জুন এই খুনের ঘটনা ঘটেছিল তার ছবি বিশ্বজোড়া চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রাথমিকভাবে স্ত্রী মিন্নির একক লড়াই প্রশংসিত হয়।

এসবই ছিল সাজানো নাটক। রিফাত শরিফ হত্যা তদন্তে এই দিকটি উঠে আসে। পরিকল্পিত খুনের পরিস্থিতি তৈরি করা মৃতের স্ত্রী মিন্নি সহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড ও চার জনকে খালাস করল বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। এমনই জানিয়েছেন মিন্নির আইনজীবী। আরও এক আসামী মুসা এখনও পলাতক।

রিফাত খুনের ঘটনার মূল আসামী তথা মিন্নির প্রেমিক নয়ন বন্ড সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার আগে পুলিশের গুলিতে মারা যায়।

গতবছর রিফাত খুনের এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে নড়ে গিয়েছিল দুনিয়া। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে বাংলাদেশের রাস্তায় যুবক রিফাতকে কুপিয়ে খুন করার ঘটনা। তীব্র আলোড়ন ছড়ায় বাংলাদেশে।

তদন্ত নেমে পুলিশ জানতে পারে রিফাতের সঙ্গে বিয়ের আগে থেকেই নয়ন বন্ডের সঙ্গে প্রেম ছিল আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির। সে গোপনে নয়নের সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছে। কিন্তু সম্পর্ক লুকিয়ে রিফাতকে বিয়ে করে। আর নয়নের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখে। এক পর্যায়ে নয়ন ও মিন্নি ছক করে রিফাত কে খুনের।

পরিকল্পনা ছিল, রিফাত কে নিয়ে মিন্নি রাস্তায় যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে নয়ন ও তার সাগরেদরা তলোয়ার নিয়ে হামলা করবে। নির্দোষ থাকতে তাদের বাধা দেবে মিন্নি। সবই হয় পরিকল্পনা মতো। হামলার ছবি ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তদন্তে নেমে বিভিন্ন সূত্র থেকে ও মিন্নির অসংলগ্ন বয়ান থেকে পুলিশ জট কাটায়। গ্রেফতার করা হয় মিন্নি কে।

মিন্নি সহ রিফাত হত্যা মামলার আসামিরা হলো- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মহ. হাসান, মহ. মুসা, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মহম্মদ সাগর ও কামরুল ইসলাম সাইমুন।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।