ওয়াশিংটন: মাছে ভাতে বাঙালি। বাঙালি মাত্রই প্রধান খাদ্য ভাত। সারাদিনে একবারও ভাত খায় না এমন বাঙালি মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ দুষ্কর ব্যাপার বটে। বিশেষত এশিয়া মহাদেশের প্রায় সব দেশের বাসিন্দাদের কাছে দুপুর হোক বা রাত প্রধান খাদ্য হিসেবে ভাত-ই সবার আগে প্রাধান্য পাই। কিন্তু এই সাদা ধবধবে বস্তুটি নিয়েই এবার আশঙ্কার কথা শোনালেন ব্রিটিশ গবেষকরা।

ম্যানচেস্টার ও স্যালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, ভাতে আর্সেনিক থাকে। আর এর ফলে হৃদরোগ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই গবেষণা যে কোনও বাঙালির বুকে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার জন্যে যথেষ্ট কিন্তু! ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান সহ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির লোকজনও দুপুরে ভাত খান।

কিন্তু গবেষকদের মতে, বেশি পরিমাণে ভাত খাওয়া শরীরের পক্ষে মোটেই ভাল নয়। এই বিষয়ে গবেষকদের দাবি , জমিতে ধান চাষ করার সময়ই মাটি ও জল থেকে ধানের মধ্যে আর্সেনিক প্রবেশ করে। পরবর্তীকালে ধান থেকে চাল এবং ভাত হওয়ার সময়ও এই আর্সেনিকের থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রবল।

ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড পলিয়া বলেছেন, “আমরা ইংল্যান্ড, ওয়েলসে আর্সেনিকের ফলে হৃদরোগ নিয়ে গবেষণা করেছি। এছাড়া স্থুলতা, ধূমপানের প্রভাবও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি।

এই গবেষণার ফলে আমাদের মনে হয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যারা নিয়মিত ভাত খান, আর্সেনিকের ফলে তাঁদের মধ্যে ২৫ শতাংশ ব্যক্তির হৃদরোগের আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়াও যারা নিয়মিত ভাত খান, তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং আচরণের উপর অবশ্য হৃদরোগের আশঙ্কার বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে।” এই বিষয়ে তিনি আরও ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, “শীর্ষ কোয়ার্টাইলের সম্ভাব্য বর্ধিত ঝুঁকি প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকি ২ থেকে ১১ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।”

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।