মুম্বই: অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন সুশান্ত সিং রাজপুতের বাবা কে কে সিং। আত্মহত্যার প্ররোচনা, প্রতারণাসহ রিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ এনেছেন তিনি। পটনার রাজিব নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরে সেখানকার চারজন পুলিশ কর্মীর একটি দল তদন্তে নামে। কিন্তু মুম্বই পৌঁছে তারা এখনও রিয়া চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি। রিয়ার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।কিন্তু শুক্রবার হঠাৎ সন্ধ্যেবেলা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসে রিয়ার একটি ভিডিও।

রিয়ার আইনজীবী সতীশ মনশিন্দে এই ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিও-র মাধ্যমে রিয়া দাবি করেন সমস্ত সত্যি সামনে আসবে। এবং তিনি আইন ও ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখেন। সাদা রঙের সালোয়ার কামিজ পরে ক্যামেরার সামনে নিজের বয়ান রাখেন তিনি। কাঁদো কাঁদো মুখে বলেন, “ঈশ্বর ও আইনের উপর আমার অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি আমি সুবিচার পাব। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় আমার বিষয়ে সাংঘাতিক কিছু কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমি আমার আইনজীবীর পরামর্শ মেনে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। “

ভিডিওর শেষে হাতজোড় করে রিয়া বলেন, “সত্য নিশ্চয়ই সামনে আসবে। সত্যমেব জয়তে।” এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। কিভাবে এখনো রিয়াকে গ্রেফতার করা গেল না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মুম্বই পুলিশ কেন এখনো রিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল না, এবং কিভাবে এখনো পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো এক অজানা জায়গা থেকে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়ছেন তিনি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা।

রিয়ার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে নেটিজেনরা তীব্র নিন্দা করেন। অনেকেই দাবি করেন, “নিজেকে বাঁচানোর জন্য সম্পূর্ণ নাটক করছেন তিনি”। রাজিব নগর থানায় সুশান্তের বাবা রিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করার পরেই রিয়া আবেদন করেন, বিহার নয়। মুম্বইতেই সুশান্ত মামলার তদন্ত হোক। রিয়ার আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেন।

প্রসঙ্গত শুক্রবার সকালেই রিয়ার আরো একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে রিয়া নিজেকে গুন্ডা, ডন ইত্যাদি বলে খুব আনন্দ পাচ্ছেন। এমনকি তাকে এও বলতে শোনা যায় যে, গুন্ডা ছেলেদের কিভাবে বশে রাখতে হয় তিনি জানেন। তাদের দিয়ে গুন্ডাগিরি কী করে করিয়ে নিতে হয় তাও তার জানা। কোনো প্রযোজকের থেকে টাকা আদায় করতে হলে এই গুন্ডাদের দিয়ে কাজ করান তিনি। এই ভিডিওয় রিয়ার এমন রূপ দেখেই চোখ চড়কগাছ হয় নেটিজেনদের।

প্রসঙ্গত ১৪ জুন বান্দ্রা ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় সুশান্তের ঝুলন্ত দেহ। তার বাবা জানিয়েছেন ঘটনার ঠিক ৬ দিন আগে রিয়া সুশান্ত টাকা, মেডিকেল ডকুমেন্টস , ল্যাপটপ, ক্রেডিট কার্ড সমস্ত নিয়ে চলে যান। মুম্বই পুলিশ জানায় আত্মঘাতী হয়েছেন সুশান্ত। বহুদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন। কিন্তু নতুন করে প্রশ্ন উঠছে কিভাবে সুশান্তের মৃত্যুর কয়েক মিনিটের মধ্যে বলে দেওয়া হয়েছিল তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন এবং অবসাদে ভুগছেন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ