মুম্বই – দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে রিয়া চক্রবর্তী কে। ২০১৯ এর অক্টোবর মাসে ইউরোপ টুর এগিয়েছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত ও রিয়া চক্রবর্তী। ঠিক কী হয়েছিল তখন সে সব জেরার মুখে বললেন রিয়া চক্রবর্তী।

সুশান্তের বাড়ির কর্মী অশোক ইন্ডিয়া টুডের কাছে জানিয়েছিলেন যে ইউরোপ থেকে আসার পর এই অভিনেতার শরীর স্বাস্থ্য খারাপ হতে শুরু করে। অবশেষে রিয়া জানালেন যখন তারা ইতালিতে বেড়াতে গিয়েছিলে ঠিক কী হয়েছিল। সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

নিজের বয়ানে রিয়া চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে তারা ২০১৯ এর অক্টোবর মাসে ইতালির ফ্লোরেন্সে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। তখনই নাকি তিনি সুশান্তের মধ্যে কিছু মানসিক সমস্যা প্রথম লক্ষ্য করেন। দাবি করেছেন ঘটনায় অভিযুক্ত রিয়া চক্রবর্তী। প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, এই ইউরোপ জুড়ে তাদের সঙ্গে গিয়েছিলেন রিয়ার ভাই সৌভিক চক্রবর্তী ও।

রিয়া বলেছেন যে, ইতালিতে তারা ৬০০ বছরের পুরনো একটি হেরিটেজ হোটেলে ছিলেন। হোটেলের রুম গুলি ছিল আকারে বিরাট এবং বহু পুরনো কিছু পেইন্টিং ছিল। একদিন রিয়া তার ভাইয়ের সঙ্গে অন্য একটি ঘরে ছিলেন। তারপরে সুশান্তের ঘরে এসে হঠাৎ দেখেন একটি পেইন্টিং এর দিকে তাকিয়ে সুশান্ত মন্ত্র যপ করছেন। হাতে রয়েছে একটি রুদ্রাক্ষের মালা। মন্ত্র যপ করতে করতে নাকি কাঁপছিলেন সুশান্ত।

তখন রিয়া সুশান্তকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তাঁর কী হয়েছে? উত্তরে সুশান্ত বলেছিলেন যে ওই পেইন্টিং এর মধ্যে তিনি বেশ কিছু চরিত্র দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু কী দেখতে পাচ্ছেন সেটা স্পষ্ট করে তিনি বলতে পারেননি। সেই রাতে সুশান্তের সঙ্গে রিয়া এবং সৌভিক দুজনেই শুয়ে ছিলেন।

সুশান্ত নাকি সেই ছবিটি সম্পর্কে হ্যালুসিনেট করছিলেন এবং ক্রমাগত রিয়া তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন যে এই ঘটনা গুলো সত্যি নয়। এই প্রথমবার সুশান্তের মধ্যে নাকি অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেছিলেন রিয়া চক্রবর্তী। এরপরে নাকি ইটালি থেকে অস্ট্রিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেখানেও খুব একটা ভাল বোধ করছিলেন না প্রয়াত অভিনেতা। আর তাই সেখান থেকে তাড়াতাড়ি চলে আসেন।

তাদের ফেরার কথা ছিল ২ নভেম্বর। কিন্তু এই অবস্থা দেখে তারা ২৮ অক্টুবর ফিরে আসেন। এই ট্রিপ থেকে আসার পরেই নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। তার মধ্যে কোন এনার্জি থাকত না দীর্ঘক্ষন ধরে চুপ করে বসে থাকতেন তিনি। যতদিন যাচ্ছিল তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন রিয়া চক্রবর্তী।

রিয়া তার বয়ানে দাবি করেছেন, কখনো সুশান্ত চিৎকার করতেন আবার কখনো কাঁদতে শুরু করে দিতেন। ওষুধ খেলেও তিনি ক্রমশ অবসাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানাচ্ছেন রিয়া। ৮ জুন নাকি সুশান্ত নিজেই রিয়াকে তাঁর বাড়ি চলে যেতে বলেছিলেন যাতে এই বিষয়টা থেকে তিনি বের হতে পারেন।

রিয়া জানাচ্ছেন তিনি নিজেও মনোবিদের কাছে গিয়েছিলেন পরামর্শের জন্য। বাড়ি ফিরে নাকি তিনি নিজের ঘর থেকে বেরোতে পারছিলেন না। সুশান্ত নাকি ১০ জুন সৌভিককে মেসেজ করে রিয়া কেমন আছে জানতে চেয়ে ছিলেন। তবে সত্যিটা কী এখনো কেউ জানে না।

এই পুরোটাই দাবি করেছেন রিয়া চক্রবর্তী। এর মধ্যে কতটা সত্যতা আছে বা নেই তা পুরোটাই তদন্ত সাপেক্ষ। ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও