মুম্বই- সুশান্ত সিং রাজপুত এর বাবা বিহার পুলিশের কাছে রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন। তারপরেই বিহার পুলিশ তদন্তে নামে। সঙ্গে সঙ্গে রিয়া চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টে স্থগিতাদেশের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত।

কিন্তু আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন সুশান্তের বান্ধবী তথা অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। তবে এবার তাঁর অন্য অভিযোগ। রিয়া চক্রবর্তীর অভিযোগ সংবাদমাধ্যমগুলি তাঁকে নিশানা করছে। রিয়ার দাবি এই সংবাদমাধ্যমগুলির তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করে দিচ্ছে।

এমনকি তিনি দাবি করেছেন যে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য তাঁকে অনেকে বলির পাঠা বানাচ্ছে। আর সেই বিষয়ে তিনি রীতিমতো ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আছেন। রিয়া এমনকি আরুষি তলওয়ার এবং টুজি স্ক্যাম মামলার উল্লেখ করেছেন।

তাঁর মতে এই দুটি মামলার ক্ষেত্রেও সংবাদমাধ্যমগুলো আগেই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে দিয়েছিল। কিন্তু পরে আদালতে তারা নির্দোষ প্রমাণিত হয়। আর তাই সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন রিয়া চক্রবর্তী। সুশান্তের বাবা এফআইআর দায়ের করার আগে রিয়া নিজে সিবিআই তদন্তের দাবি করেছিলেন। অমিত শাহের কাছে এই আবেদন করেছিলেন রিয়া।

কিন্তু এখন তিনি সিবিআই তদন্তের বিরোধিতা করছেন বলে জানা যাচ্ছে। তার দাবী যে ঘটনা মহারাষ্ট্রে ঘটেছে, সেই ঘটনার তদন্ত বিহার মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমার এর আবেদন এর পরে কিভাবে সিবিআই তদন্তের হাতে চলে যেতে পারে। তাঁর মতে একমাত্র রাজ্য সরকার যদি সিবিআই তদন্তের উদ্যোগ নেয় তাহলেই এটি সম্ভব।

অথবা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত তদন্তের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সিবিআই ইতিমধ্যেই রিয়া চক্রবর্তী ও তার পরিবার সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর রেজিস্টার করেছে। প্রসঙ্গত সুশান্তের বাবার ইয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করার পরে ইডিও অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করে।

সেই মর্মে আজ সোমবার রিয়া ও তার পরিবারকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো। রিয়ার বার্ষিক আয় ১২-১৪ লক্ষ টাকা। কিন্তু তা সত্বেও কিভাবে মুম্বইয়ের দুটি বিলাসবহুল জায়গায় এতো ভালো ফ্ল্যাট কিনেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে ইডি।

এছাড়াও সুশান্তের বাবা অভিযোগ করেছিলেন যে তার ছেলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা নয়ছয় করেছেন রিয়া চক্রবর্তী। সেই দিকেও নজর দিচ্ছে ইডি। আজ সোমবার রিয়ার সঙ্গে ইডি অফিসে হাজিরা দেন তার ভাই সৌভিক চক্রবর্তী ও বাবা ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী। রিয়া চক্রবর্তীর বিজনেস ম্যানেজার এদিন হাজির হন সেখানে। এরপরে বেলা ২.৩০ মিনিট নাগাদ ইডি অফিসে আসেন সুশান্তের রুমমেট সিদ্ধার্থ পিঠানি।

এদের প্রত্যেককেই গত ৭ অগাস্ট জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ইডি অফিসে। সৌভিক চক্রবর্তীকে টানা ২২ ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং রিয়াকে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু আজ আবার তাদের দ্বিতীয় দফায় জেরা করা হয়।

রিয়া চক্রবর্তীর আইনজীবী সতীশ মনশিন্দে জানান যে রিয়া এই তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। পিটিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে ইডির নজরে এসেছে যে সুশান্তের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সৌভিক চক্রবর্তীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বেশ কিছু টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে। সৌভিক এর ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখে এগুলি জানতে পারা গিয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা