কেপ টাউন : ‘নেলসন ম্যান্ডেলা’ (Nelson Mandela) নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে যার ছবি তিনিই হলেন সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি (Black President)। শ্বেতাঙ্গদের বিপরীতে একজন কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর শাসনকালে আফ্রিকায় (South Africa) নতুন যুগের সূচনা ঘটিয়েছে। দূর করেছে বর্ণবৈষম্য, কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গের। কারণ সবসময় সবার সমান মর্যাদার কথায় বলতেন তিনি।

তবে একজন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রনায়ক(President of South Africa) হিসেবে আফ্রিকার শাসনভার নেওয়া ও দেশনেতা হয়ে ওঠার পিছনের ইতিহাস অনেকটাই কঠিন কষ্টকর। যেগুলি কমবেশি আমরা সকলেই জানি।

জীবনের ২৭ বছর কারাবন্দি থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছিলেন শান্তিপূর্ণ সর্বধর্মের সর্ববর্ণের মানুষের দেশ হিসেবে। শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গের ভেদ মুছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। সর্বপ্রথম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চেহারা দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। তিনি সব সময় স্বপ্ন দেখেছিলেন সর্ববর্ণ সর্বধর্মের সমানাধিকার থাকবে আফ্রিকায়। সেই স্বপ্ন তাঁর সফল হয়েছিল। ইতিহাস তাঁকে ‘আফ্রিকান গান্ধী’ (African Gsndhi)তকমা দিয়েছে। বিশ্বের জনপ্রিয় কিংবদন্তি নেতা হিসাবে আজও সমানভাবে তিনি স্বীকৃত ও সম্মানিত।

কিংবদন্তি ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই মহান নেতা জন্মগ্রহণ করেন ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই৷ আফ্রিকার জোসাভাষী সম্প্রদায়ের থেম্বু রাজবংশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তাঁর। নেলসন ম্যান্ডেলার বাবার নাম হেনরি ম্যান্ডেলা(Henry Mandela)। বাবার মৃত্যুর পর রাজ্যপালের পদ ছেড়ে স্ব-ইচ্ছায় আইনের পেশায় ঢুকে পড়েন। সংবিধান, খসড়া নিয়েই পড়াশোনা শেষ করেন তিনি।

১৯৫২ সালে ম্যান্ডেলা এবং সহযোগী আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (ANC) সদস্য অলিভার(Aliver Tembo) টাম্বো দেশের প্রথম কৃষাঙ্গ আইন অনুশীলন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্ণবাদ আইন থেকে ক্ষেত্রে অনুশীলনটি বিশেষত। প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ আইন অনুশীলনটি ম্যান্ডেলার দাবিযুক্ত অনেকগুলি পন্থার মধ্যে একটি ছিল। ১৯৫৫ সালে, তিনি স্বাধীনতা সনদ খসড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এটিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতিগত সামাজিক গণতন্ত্রের আহ্বানকারী দলিল বলা হয়।

ম্যান্ডেলার জীবন কখনই লড়াই-বিহীন ছিল না। সমাজের সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত মানুষের জন্য তিনি সবসময় কথা বলতেন। ১৯৫২ সালে তৎকালীন আফ্রিকান শাসক ম্যান্ডেলাকে অন্তর্বর্তীভাবে দেশের ভিতর অবাধে ঘোরাফেরা নিষিদ্ধ করে দেয়(bans)। তবুও থেমে থাকেননি দক্ষিণ আফ্রিকার এই বীরপুরুষ।

সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে ম্যান্ডেলার ভ্রমণ,সভা সমিতি করা এবং প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখাও সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৫৬ সালের ডিসেম্বর মাসে বর্ণবাদ বিরোধী কর্মীদের হয়রানি করার জন্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে শতাধিক ব্যক্তির সহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। জীবনের ২৭ বছর কারাভোগ ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়ে ম্যান্ডেলা তার মাতৃভূমির রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য একজন নেতা হিসাবে উঠে এসেছিলেন।

শুধু গ্রেফতার নয়, বিচারে যাবজ্জীবন সাজা। দীর্ঘ ২৭ বছর পর কারামুক্ত হন দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই কান্ডারি। তিনি মুক্তি পান দেশের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান ডি ক্লার্কের সহযোগিতায়। ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রয়ারি। আর এই দীর্ঘ জেলজীবনেই লিখেছিলেন আত্মজীবনী “লং ওয়াক টু ফ্রিডম”।

তিনি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই আফ্রিকার প্রথম কৃষাঙ্গ রাষ্ট্রপ্রধান। আফ্রিকান জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের আদর্শের ধারক ম্যান্ডেলা ১৯৯১ থেকে ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

১৯৯৫ সালে ম্যান্ডেলা সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন (টিআরসি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যা বর্ণ বৈষম্যের এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত করেছিল। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে আবাসন, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক বিকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

১৯৯৬ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা আফ্রিকার জন্য একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান কার্যকর করার তদারকি করেছিলেন। ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে, তিনি আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (ANC) থেকে পদত্যাগ করেন এবং দলের নেতৃত্ব থাও এমবেকি-তে স্থানান্তর করেছিলেন। এছাড়াও তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি হিসাবে দ্বিতীয়বারের জন্য পদপ্রার্থী হননি।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে পদ ত্যাগের পরে ম্যান্ডেলা সক্রিয় রাজনীতি থেকেও অবসর নেন। তবে তিনি শান্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সক্রিয় সমর্থক হিসাবে অবিরত ভাবে কাজ করে গিয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। যা অনেকের জীবনকে পরিবর্তন করে দেয়। তাঁর ৯০ তম(90th birth anniversary) জন্মবার্ষিকীতে আজও ম্যান্ডেলা এবং তাঁর সম্প্রদায়ের উন্নয়নে তাঁর অবদান দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রিটেন এবং আরও কয়েকটি দেশে সস্মানে উদযাপিত হয়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.