কৃষ্ণনগর: দিন কয়েক আগেই কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এবার কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অধ্যাপকদের সঙ্গে বৈঠকের বসতে চলেছেন তিনি৷ আগামী সোমবার দুপুর দু’টোয় হবে এই বৈঠক৷ বৈঠকে উচ্চ শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে৷ এই রিভিউ বৈঠতে শিক্ষক, অধ্যক্ষ, অধ্যাপক ছাড়াও আসতে বলা হয়েছে প্রাথমিক ও মধ্য শিক্ষা পর্ষদ, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানকে৷

প্রত্যেক উপাচার্য, অধ্যক্ষকে ই-মেলের মাধ্যমে রিভিউ বৈঠতে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে নবান্নের তরফে৷ লোকসভা ভোটের আগে রাজ্যের শিক্ষা প্রশাসনকে ঝাঁকুনি দিতেই এই বৈঠকের ডাক বলে মনে করা হচ্ছে৷ অনেকে আবার মনে করছেন, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ভরতির ক্ষেত্রে দুর্নীতি দূর করতেই আগেভাগেই এই বৈঠক করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তবে রিভিউ বৈঠকে মখ্যমন্ত্রী ঠিক কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন তাভেবেই এখন অস্বস্তিতে উপাতার্য, অধ্যক্ষরা৷

এই প্রথম নয়৷ ২০১৭ সালের ৭ই জানুয়ারি এই ধরণের বৈঠক হয়েছিল নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে৷ শিক্ষক, অধ্যাপক ছাড়াও আধিকারীকরাও উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে৷ সেবার কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শূন্য পদ পূরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বয়সসীমা সেবার ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ করার ঘোষণা করা হয়৷ মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই শিক্ষামন্ত্রী ২০১৭-এর জুনের মধ্যে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শূন্য পদে নিয়োগ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেন৷ কিন্তু তা বাস্তবে রূপায়িত হয়নি৷

পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে সরাকরি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজে ৫,৯৩১জন অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর, প্রাথমিকে ৬০ হাজার শিক্ষক, মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিতে ৫০ হাজারের বেশি শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে৷ তবুও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতির ক্ষেত্রে দুর্নীতি, বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় বসা নিয়ে কলেজে কলেজে ছাত্র সংসদের ভূমিকা, পড়ুয়াদের উপস্থিতি ঘিরে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে৷ অস্বস্তি বেড়েছে সরকারের৷ ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্থলা ফেরাতেই ১৯শের ভোটের আগে এই বৈঠত বলে মনে করা হচ্ছে৷