নয়াদিল্লি : শাঁখের করাত। দুদিক দিয়েই ধাক্কা খাচ্ছে পাকিস্তান। একদিকে ভারত, যে চিরশত্রু। অন্যদিকে চিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব, যার বড়সড় মূল্য চোকাতে হতে পারে। কোনদিকে যাবে ইমরান সরকার, সেদিকে তাকিয়ে বিশ্ব। কারণ শনিবার পাক বিদেশমন্ত্রক পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে চিন নীতি যদি পাকিস্তান না বদলায়, তবে বিশ্বে একঘরে হতে হবে। চিনের আগ্রাসন মনোভাব কোনও দেশই পছন্দ করছে না।

এই পরিস্থিতিতে যদি পাকিস্তান এখনও চিনের সঙ্গে গলাগলি করে, তবে তারাও বিভিন্ন দেশের বন্ধুত্ব হারাবে। যা পাক অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এমনই সতর্কতা জারি করেছে পাক বিদেশমন্ত্রক।

লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে ভারতীয় সেনার ওপর নির্মম হামলা গোটা বিশ্ব দেখেছে। তার প্রেক্ষিতে ভারতের বন্ধু রাষ্ট্র যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, বা রাশিয়া বেশ ক্ষুব্ধ চিনের ওপর। চিনের সঙ্গে এখন বন্ধুত্ব রাখলে এদের রোষে পড়তে হতে পারে পাকিস্তানকে, এমনই মত পাক কূটনীতিকদের।

সূত্র বলছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে পাক বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে চিনের সঙ্গে হৃদ্যতা দেখানোর সময় এটা নয়। কারণ বিশ্বের বেশ কয়েকটি বৃহৎ ও শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ চিনের বিরুদ্ধে।
ইতিমধ্যেই ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চিনকে একঘরে করতে উদ্যোগ নিয়েছে। সেই তথ্য তুলে ধরে পাক বিদেশ মন্ত্রক ইমরান খান সরকারকে জানিয়েছে অন্ধের মত চিনকে সমর্থন করা বোকামো হবে।

এদিকে, শুক্রবার কাশ্মীর প্রসঙ্গে চিনের সঙ্গে টেলিফোনিক আলোচনা সারেন পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার লক্ষ্যেই এই কথোপকথন বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি, আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়ে বলে জানা গিয়েছে।

ভারত নাকি সীমান্তে যুদ্ধের মনোভাব নিয়ে রয়েছে, বিনা প্ররোচনায় হামলা চালাচ্ছে, চিনের বিদেশমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ করেছেন কুরেশি। ভারতের এই মনোভাব উপত্যকায় অশান্তি ছড়াচ্ছে বলেও এদিন জানিয়েছেন তিনি। পাক বিদেশমন্ত্রী বলেন কাশ্মীর উপত্যকার স্থিতাবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। অবনতি হচ্ছে পরিস্থিতির। পাকিস্তান এই বিষয়ে বেশ চিন্তিত বলেও জানিয়েছেন কুরেশি।

পাকিস্তান যেভাবে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করছে, তা প্রশংসনীয় বলে জানিয়েছে চিন। করাচি হামলার প্রেক্ষিতে এদিন চিনা বিদেশমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। ফলে পাক-চিন সম্পর্ক এবার নজরে পড়ছে বিশ্বের সব রাষ্ট্রেরই।

অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই চিন বিরোধী সুরে প্রতিবাদ শুরু করেছে জাপান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির তরফে চিন বিরোধী ঝড় উঠেছে। অনেকদিন থেকেই চিন-জাপান সম্পর্কের পারদ চড়ছে তবে সাম্প্রতিক খোঁচার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়েছে চিন অনুমোদিত হংকংয়ের জাতীয় সুরক্ষা আইন। আইনগত এই ভাবনা নিয়ে চিনকে ভালো চোখে দেখছে না জাপানও।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ