স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: দিব্যাঙ্গদের পড়াশোনার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল রেলের অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী৷ ৬৬ বছরের বৃদ্ধ অবসর প্রাপ্ত রেলকর্মী সুবোধ কিস্কু৷ তিনি দিব্যাঙ্গদের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য তার উপার্জিত অর্থ থেকে ১৬০০০ টাকা সাহায্য করলেন নিমতৌড়ি তমলুক উন্নয়ন সমিতির কর্তৃপক্ষের হাতে।

সুবোধবাবু আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত৷ তিনি পাঁশকুড়া থানার কুনকপুর গ্রামের বাসিন্দা৷ চার কন্যা ও এক পুত্র তাঁর। সুবোধবাবুর পুত্র মনোজ কিস্কু সম্প্রতি একটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষকতার কাজে যুক্ত হয়েছেন। তিনি বিভিন্নভাবে দিব্যাঙ্গদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বহুমুখী উন্নয়ন মূলক কর্মসূচী নিয়েছেন৷ শুধু তাই নয় প্রতিবন্ধীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তার মন কেড়ে ছিল। তার বাবার দয়ালু ইচ্ছেকে পূরণ করতে তিনি কোন দ্বিধা না করে এই প্রতিষ্ঠানকেই বেছে নেন।

মনোজ কিস্কু নিজের ইচ্ছায় এসে প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ সব কিছু জানার সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রয়াত ডঃ সুশীল কুমার ধাড়ার আশীর্বাদ যে প্রতিষ্ঠানে রয়েছে সেই প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেন৷ তারপরই এই প্রতিষ্ঠানের অসহায় মানুষের জন্য দান করার সিদ্ধান্ত নেন৷ এই দিনের অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের হোম আবাসিক, প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রী ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দৃষ্টিহীন প্রিয়াঙ্কার গান, পার্বতীর জীবন যুদ্ধের কাহিনী শুনে শুধু অভিভূত নয় বিস্মিত হন সুবোধ বাবু। তিনি বলেন, ‘‘আজ জীবনের এক বিশেষ অনুভূতি নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। সমাজের বহু প্রতিষ্ঠান যদি সত্যি সত্যি আন্তরিকতার সঙ্গে এই রকম কাজে যুক্ত হয় তাহলে আগামী দিনে গ্রামে থাকা অনেক প্রতিবন্ধী সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। জীবনের স্বাদ খুঁজে পাবে৷

তার একমাত্র পুত্র মনোজ কিস্কুর মতে, আমার কর্মস্থল বহুদূরে হলেও সারা জীবন এদের সঙ্গে, এদের পাশে থাকার অঙ্গিকার করছি। প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক যোগেশ সামন্ত জানান, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারের সাহায্য অনেক কম৷ তাই এই সব গরীব অসহায়, দরিদ্র, দিব্যাঙ্গদের কল্যাণ ও উন্নয়নে ভীষণ জরুরি। সুবোধবাবুর মতো আরও অন্যরা এগিয়ে এলে আমাদের কাজ করতে সুবিধে হবে। তাই সরকারের আন্তরিকতার সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের আরও বেশি সাহায্য কামনা করি৷