কলকাতা: কৃষক ও সাংবাদিকদের পর প্রাক্তন খেলোয়াড়দের পেনশন দেওয়ার ভাবনা রাজ্য সরকারের৷ সোমবার নেতাজি ইন্ডোরে ‘খেলাশ্রী’ পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজ্য সরকারের এই ভাবনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর ঘোষণা কেউ ভালো খেললে তাকে সিভিক ভলেন্টিয়ারে চাকরি দেওয়া হবে৷ অন্যদিকে লোকসবা ভোটের আগে আরও ২২১টি কোচিং সেন্টারকে এক লক্ষ টাকা করে দেবে রাজ্য৷

অনেক সময় দেখা যায় পেশাদার প্রাক্তন খেলোয়াড়রা অর্থ কষ্টে ভুগছেন৷ টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পর্যন্ত হয় না তাদের ৷ এই পরিস্থিতির বদল চায় রাজ্য সরকার৷ তাই প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সাহায্যে এবার পেনশন প্রকল্প চালুর ভাবনার কথা এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী৷

আরও পড়ুন: সীমা ছাড়াচ্ছে কংগ্রেস, ইস্তফা দিতে প্রস্তুত কুমারস্বামী

খেলাশ্রী পুরষ্কার প্রদান মঞ্চ থেকেই এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের ক্রীড়ানীতির সমালোচনায় সরব হন মুখ্যমন্ত্রী৷ দলগত বা ব্যক্তিগতভাবে কোনও খেলোয়াড় ভালো করলে ট্যুইট করে অভিনন্দন জানানো হয়৷ বহু ক্ষেত্রে এই ট্যুইট করেন প্রধানমন্ত্রী, আবার অনেক সময় তা করা হয় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ট্যুইট অভিনন্দনের নিন্দা করেন৷ তিনি মনে করেন এতে সফল খেলোয়াড়দের যোগ্য সম্মান দেখানো হয় না৷ বাংলাতে খেলোড়ারদের প্রকৃত সম্মান জানানো হয় বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর৷

কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্যের বিগত বাম সরকারের ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়নের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি জানান, ২০১১ সালের পর থেকে ক্রীড়াক্ষেত্রে বরাদ্দ সাত গুণ বেড়ছে৷ ৭৩ কোটি থেকে বাজেট বেড়ে হয়েছে ৫১৫ কোটি টাকা৷ পরিকাঠামো উন্নয়নে সাহায্য করছে রাজ্য৷ জনপ্রিয় থেকে অনামী সব খেলাতেই প্রাধান্য দেওয়া হয় রাজ্যের তরফে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘রাজ্যের ২৪ হাজার ক্লাবকে ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্ননে ৫ লক্ষ টাকা করে দিয়েছে রাজ্য সরকার৷’’

আরও পড়ুন: নবম-দশম শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগে এসএসসি জট অব্যাহত

মোদী সরকারকে তুলোধনা করে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ক্রীড়াক্ষেত্রেও নজরদারি ও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়া হচ্ছে৷ তিনি বলেন, ‘‘ক্লাবগুলিকে টাকা দিলেই নজরদারি চলছে৷ কোনও সংস্থা বা ব্যক্তি সাহায্য করলেই তাকে তদন্তের নামে ভয় দেখানো হচ্ছে৷ ফলে কেউ আর সাহায্য করতে পারচ্ছেন না৷ এতে ক্ষতি হচ্ছে খেলাধুলার৷’’

পঞ্চায়েত ভোটের আগে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র ঘোষণা অনুযাই, কৃষির সহায়তার জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করেছে রাজ্য সরকার। সেই তহবিল থেকেই কৃষকরা পেনশন পান। আগে ৬৬ লক্ষ কৃষককে পেনশনের আওতাভুক্ত করা হলেও পরে তা বেড়ে হয় একলক্ষ৷ রাজ্যে কৃষক পেনশনের পরিমান মাসিক এক হাজার টাকা৷ এর পাশাপাশি রাজ্য সরকার সাংবাদিকদেরও পেনশন দেয়৷