জয়পুর: পাকিস্তানকে উচিৎ শিক্ষা দিতে একদিকে সার্ক সামিট বয়কট করছে ভারত। সিন্ধু চুক্তি বাতিল নিয়েও চলছে পরিকল্পনা অর্থাৎ পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে জিততে চাইছে ভারত। কিন্তু এখনও দেশের বহু মানুষ চাইছেন একটা অন্যরকম উত্তর। যেন একেবারে চিরকালের মত ঠাণ্ডা করে দেওয়া যায় পাকিস্তানকে। বিশেষ করে বহু অবসরপ্রাপ্ত সেনা চাইছেন, যুদ্ধ। এমনই এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান দিগেন্দ্র সিং সিকার। কার্গিল যুদ্ধে ৪৮ জন পাকিস্তানিকে খতম করেছিলেন তিনি। সেই দিগেন্দ্র সিং বললেন, ‘যুদ্ধ হলে আমি ফিরে যাব সীমান্তে।’ কার্গিল যুদ্ধের পর মহাবীর চক্র পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।

রাজপুতানা রাইফেলসের প্রাক্তন কমান্ডার দিগেন্দ্র বলেন, ‘আমরা কখনও যুদ্ধ চাইনি। কখনও যুদ্ধ শুরু করিনি। কিন্তু পাকিস্তান এমন একটা দেশ যাদের শান্তির ভাষা বোঝার ক্ষমতা নেই। যুদ্ধ হলে আমি আবার ফিরে যাব আমার ব্যাটেলিয়নে। আর জাতীয় পতাকার জন্য লড়াই করার অনুমতি চাইব আবারও। আমাকে যদি যুদ্ধ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে আহত জওয়ানদের বাঁচানোর দায়িত্ব নেব আমি।’

২০০৫-এ অবসর ননে দিগেন্দ্র। ত২আর ২০ বছরের সেনা জীবনে অনেক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন তিনি। যোগ দিয়েছেন অনেক অভিযানে। শ্রীলঙ্কার এলটিটিই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অপারেশন পবনে অংশ নিবেছিলেন তিনি। যেখানে একা হাতেই মেরেছিলেন ৪০ জন জঙ্গিকে। ১৯৬৯-এ রাজস্থানের জাঠ পরিবারে জন্ম দিগেন্দ্রর।১৯৪৭-এ কাশ্মীর নিয়ে অশান্তির সময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন তাঁর বাবা শিবদান সিং। ১৯৮৫-তে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন দিগেন্দ্র। বিক্রম বাত্রা কিংবা যোগেন্দ্র সিং যাদবের মত সেনাদের পাশে কার্গিলের অনেক যোদ্ধাদের নামই হারিয়ে গিয়েছে। তেমনই একজন দিগেন্দ্র।

কার্গিল যুদ্ধের সময় রাজপুতানা রাইফেলসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পয়েন্ট ৪৫৯০ জয় করার। ১৫০০০ ফুট উঁচুতে শত্রুদের তাড়িয়ে দেসের মাটি ফিরিয়ে নিয়ে আসার দায়িত্বে ছিল এ বাহিনী। লাইট মেশিন গান গ্রুপের কমান্ডার ছিলেন দিগেন্দ্র সিং সিকার। ওই উচ্চতায় ১১টা বাংকার নিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। প্রথম আর শেষ বাংকারটা টার্গেট করা ছিল দিগেন্দ্র-র কাজ। এই অভিযানে শহিদ হন বহু সেনা। শহিদ হন মেজর বিবেক গুপ্তা। কিন্তু বুলেট লাগা সত্ত্বেও গুলি চালিয়ে গিয়েছিলেন দিগেন্দ্র। পাক সেনার সঙ্গে সরাসরি লড়াইতে জয়ী হন তিনি। ৪৮ জন পাক সেনাকে খতম একা হাতে খতম করেছিলেন তিনি। পাক সেনাবাহিনীর এক মেজরকে বেয়নেট দিয়ে ধড়-মুণ্ডু আলাদা করে দিয়েছিলেন। যুদ্ধের পর ভারতের প্রেসিডেন্টের হাত থেকে মহাবীর চক্র পুরস্কার পান তিনি।