নয়াদিল্লি: ক্রমশ সঙ্গীন হচ্ছে মধ্যবিত্তের অবস্থা ৷ একে অর্থনৈতিক বেহাল দশা তার উপর আবার মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়ত বাড়তে নতুন রেকর্ড গড়ছে ৷ ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছিল জিডিপি গত ছ’বছরে সর্বনিম্ন । এ বার দেখা গেল কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) বা খুচরো মূল্যসূচকও ছ’বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছে নয়া রেকর্ড করেছে । যার ফলে এই মুদ্রাস্ফীতির হার রিজার্ভ ব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী যা ধরা হয়েছিল সেটাই ছাড়িয়ে গেল৷

দেখা গিয়েছে, ডিসেম্বরে খুচরো মূল্যসূচক ৭.৩৫ শতাংশ হয়েছে, যা নভেম্বরের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ বেশি। বিশেষত উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি। অর্থনীতিবিদদের একাংশের অভিমত, পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবেই এমনটা ঘটেছে।

২০১৯-’২০ অর্থবর্ষে ডিসেম্বরের খুচরো মূল্যসূচক সংক্রান্ত তথ্য সোমবারই বের করেছে জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর (এনএসও)। প্রতি মাসেই এই সূচকের তথ্য প্রকাশ করে থাকে এনএসও। এই খুচরো মূল্যসূচকের মধ্যে রয়েছে খাদ্যদ্রব্য, গৃহস্থালির জিনিসপত্র ও পরিষেবা, চিকিৎসা-স্বাস্থ্য, আবাসন, জ্বালানির মতো ক্ষেত্রগুলি। আমজনতার উপর দ্রব্যমূল্যের বোঝা কতটা পরিবর্তন হল তারই প্রতিফলন পাওয়া যায় সূচকে। কারণ জিনিসপত্রের দামের ওঠা-নামার উপর নির্ভর করে এই সূচক।

নভেম্বরে এই খুচরো মূল্যসূচক হয়েছিল ৫.৫৪ শতাংশ, যা ৪০ মাসে পৌঁছে গিয়েছিল সর্বোচ্চ। এবার সেটাই আরও বেড়ে দাঁড়াল ৭.৩৫ শতাংশ। এক মাসের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতির হার এতটা বেড়ে যাবে তা একেবারেই আঁচ করতে পারেননি অর্থনীতিবিদরা। এর আগে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে এতটা হার ছিল , তখন অংকটা ছিল ৭.৩৯ শতাংশে।
এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দশা হল খাদ্যদ্রব্যে ৷ এই ক্ষেত্রে নভেম্বরে যেখানে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল ১০.০১ শতাংশ,ডিসেম্বরে সেটাই বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৪.১২ শতাংশ। গত বছর অর্থাৎ ২০১৮সালের ডিসেম্বরে অংকটা ছিল ১১.৪৭ শতাংশ। এর মধ্যে আবার সব্জি-আনাজের খুচরো মূল্যসূচক বেড়ে গিয়েছে ৬০.৫ শতাংশ। যেখানে আগের মাস নভেম্বরে এই অংকটা ছিল ৩৬ শতাংশ।

তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে মূল্যসূচক কিছুটা হলেও কমেছে। যেমন গৃহস্থালির জিনিসপত্র নভেম্বরের ২.২ শতাংশ থেকে ডিসেম্বরে কমে হয়েছে ১.৭৫। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নভেম্বরে ছিল ৫.৫ শতাংশ তা ডিসেম্বরের কমে হয়েছে ৩.৩৮%, যা নভেম্বরে ছিল ৫.৫%। আবাসন ক্ষেত্রে নভেম্বরে ছিল ৪.৫ শতাংশ যা ডিসেম্বরের কমে হয়েছে ৪.৩ শতাংশ৷ অন্যদিকে জ্বালানিতে ক্ষেত্রে ডিসেম্বরে হয়েছে ০.৭ শতাংশ যেখানে নভেম্বরে ছিল ১.৯%।

এনএসও-র দেওয়া পরিসংখ্যানে চিন্তা বেড়েছে রিজার্ভ ব্যাংক এবং কেন্দ্রের। কারণ সাধারণত যেখানে শীতের সময় সবজি ও আনাজপাতি ইত্যাদির দাম কমে সেখানেই এই দশা৷ তার উপর অসময়ের বৃষ্টির জেরে পেঁয়াজ সহ অন্যান্য ফলন ব্যাপক ভাবে মার খেয়েছে৷ যেখানে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত খুচরো মূল্যসূচক সর্বোচ্চ কতটা বাড়তে পারে সে সম্পর্কে আগাম আঁচ করে জানায়। রিজার্ব ব্যাংকের সেই ভবিষ্যদ্বাণী ছিল ২-৬ শতাংশ। কিন্তু বাস্তব তা ছাপিয়ে গিয়েছে ডিসেম্বরে, যা গত সাড়ে তিন বছরে হয়নি। ডিসেম্বরেও এই মূল্যসূচকের লাগামছাড়া বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ