তনুজিৎ দাস, কলকাতা: রবিবাসরীয় সন্ধেয় কলকাতার মাটিতে পা দেওয়ার পর থেকেই শুনছিলেন কথাটা৷ অবশেষে ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙল৷ সোমবার সন্ধ্যায় ভিড়ে ঠাসা কর্মী সভায় নিজেকে আর সামলে রাখতে পারলেন না তিনি৷ বলেই ফেললেন, ‘‘কিসের তৃণমূল? মারতে এলে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলুন৷ মনে রাখবেন, এটা বিজেপি- সর্বভারতীয় দল৷ আমরা অন্যায় কে বরদাস্ত করি না৷’’

তিনি অমিত শাহ৷ বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি৷ স্বাভাবিকভাবেই তাঁর বক্তৃত্বা শুনে কর্মীদের রক্ত গরম হওয়াটাই স্বাভাবিক৷ মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি যখন রাজ্যর প্রশাসনিক প্রধান তথা মা-মাটি-মানুষের জননেত্রীর তীব্র সমালোচনায় মুখর, তখন কর্মীদের হাততালিতে কান পাতা দায়৷

নিজের সংক্ষিপ্ত বক্তৃত্বায় আগাগোড়া তৃণমূলের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি কর্মীদের তিনি বুঝিয়ে দিলেন, এরাজ্যে শাসকের বিরুদ্ধে লড়তে হলে চোখে চোখ রেখেই লড়তে হবে৷ সেজন্য ভরা সভায় কর্মীদের উদ্দেশ্যে ‘ওয়ার্ক আউট’ও ছকে দিলের তিনি৷ যেমন, বুথস্তরে জোর দিতে কর্মীদের আরও তৎপর হওয়ার কথা বললেন৷

বিজেপি-র রাজ্য সভাপতির কথায়, ‘‘প্রতিটি বুথের দ্বায়িত্বে থাকবেন ২ জন করে কর্মী৷ সাংগঠনিকভাবে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় ভালো জন সংযোগও থাকতে হবে তাঁদের৷’’ রাজ্য নেতৃত্বর তরফে এদিন দাবি করা হয়, এরাজ্যে বিজেপির ৪০ লক্ষ কর্মী রয়েছেন৷ যার জবাবে অমিত শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘‘খাতায় কলমে দেখালে হবে না, প্রতিটি কর্মীকে সক্রিয় করতে হবে৷’’
একই সঙ্গে এদিন তিনি দলের পুরনো কর্মীদের পাশাপাশি, যোগ দেওয়া বাম কর্মীদের কাজে লাগিয়ে সংগঠন তৈরিরও বার্তা দেন৷ তৃণমূলস্থরে বামকর্মীদের কাজে লাগিয়ে সংগঠন বাড়ানোর টার্গেটও বেঁধে দেন৷

সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে রাজ্য নেতৃত্বকে চারটি কৌশল দিয়েছেন অমিত শাহ। এক, প্রতিটি কর্মীকে দুটি করে বুথের দায়িত্ব নিতে হবে। দুই, খাতাকলমে রাজ্যে যে ৪০ লক্ষ বিজেপি সদস্য ছিল তাঁদের কাছে পৌঁছাতে হবে। তিন, দেড় কোটি ভোট তুলে আনতে হবে। চার, অন্যদলের সক্রিয় কর্মীদের ভাঙিয়ে দলে টানতে হবে।

কলকাতা থেকে যাওয়ার আগে, শেষ দিন বুধবার তিনি কি ‘দাওয়ায়’ দিয়ে দিল্লির পথে রওনা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য বিজেপি৷