কলকাতা:  গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার অচলবস্তা চলছে এনআরএসে। কর্মবিরতিতে জুনিয়র ডাক্তাররা। এই অবস্থায় এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শৈবাল মুখোপাধ্যায়। সহকারী অধ্যক্ষের পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে তাঁদের ইস্তফা পত্র স্বাস্থ্য-শিক্ষা সচিবকে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও তা এখনও পর্যন্ত গৃহিত হয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।

চার ঘন্টার মধ্যে সমস্ত সরকারি হাসপাতাল থেকে কর্মবিরতি তুলে নিতে হবে। এমনটাই হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এরপরেও ছবিটা বদলায়নি। বরঞ্চ বিদ্রোহের আগুন আরও তীব্র আকার নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কার্যত ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন অধ্যক্ষ এবং সহ-অধ্যক্ষ।

ডাক্তার নিগ্রহের ঘটনায় গর্জে উঠেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। একাধিক দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এনআরএসের ঘটনার আঁচ ইতিমধ্যে কলকাতা সহ গোটা রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় লাটে উঠেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। গত তিনদিন ধরে চলছে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি। এই অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার এসএসকেএম যান মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দুপুর ১২টা নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসএসকেএমে ঢুকে কার্যত আন্দোলনরত ডাক্তারদের কার্যত হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, চার ঘন্টার মধ্যে কাজ যোগ না দিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি জুনিয়র ডাক্তারদের বহিরাগত তকমা দিয়ে হোস্টেল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে ডাক্তাদের মধ্যে ‘বিদ্রোহে’র আগুন জ্বলে উঠেছে। গণহারে ইস্তফা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডাক্তাররা। এক্ষেত্রে জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিনিয়র ডাক্তাররা। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারির পরেই জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এসএসকেএমের নার্সরাও।

দ্রুত অবস্থা স্বাভাবিক করতে ইতিমধ্যে নবান্নে জরুরি বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা আর এই বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা নিয়েই মূলত আলোচনা করতে জরুরি এই বৈঠকের ডাক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে হাজির ছিলেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য,মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্যসচিবসহ অন্যান্য আধিকারিকরা৷

অন্যদিকে তাঁর এই হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরেও এখনও পর্যন্ত কাজে ফেরেননি জুনিয়র ডাক্তাররা। এই অবস্থায় এনআরএস-কান্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়। পদ ছাড়লেন অধ্যক্ষ এবং সহ-অধ্যক্ষ।