স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের অন্যতম সমস্যা হল গঙ্গা ভাঙন। এই ভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় প্রতি বছরই গৃহহীন হয়ে যায় বহু মানুষ৷ ভাঙনের গ্রাসে খোয়াতে হয় ঘরবাড়ি চাষের জমি। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকের মহেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মুষ্টিনগর গ্রামে বুধবার সন্ধ্যা থেকে হঠাৎ নতুন করে গঙ্গা ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনের ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামের বাসিন্দারা।

যদি এই মুহূর্তে গঙ্গা ভাঙন রোধ না করা যায় তাহলে গঙ্গার পারে যে সমস্ত মানুষ বসবাস করছেন, তাদের ঘর ও বাড়ি আবার গঙ্গা ভাঙ্গনে তলিয়ে যাবে বলে দাবি স্থানীয়দের। ইতি মধ্যে রাত থেকে প্রায় ১৫০ মিটার নদী পার তলিয়ে গিয়েছে৷ ধীরে ধীরে বাড়ছে ভাঙন।

১৯৯৮ সালে শেষ বার এই গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ করা হয়েছিল এলাকায়৷ কিন্তু তারপর আর কোনও রক্ষণ বেক্ষন করা হয়নি৷ ফলে এই বছর ফের ভাঙন শুরু হয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এইভাবে যদি ভাঙন চলতে থাকে তাহলে যেকোনো মুহূর্তে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাবে গঙ্গার জলে। গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে জানানো হয়েছে৷ অবিলম্বে যাতে এই ভাঙ্গন রোধের কাজ শুরু করে৷ কিন্তু এখনও কোন রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এই বিষয়ে মহেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান হাসিম সেখ জানান, আমরা পঞ্চায়েত সমিতি ও সেচ দফতরকে জানিয়েছি৷ তারা যাতে অবিলম্বে কাজ শুরু করে। রাত ভোর ভাঙন হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আতঙ্কিত আমরা। প্রায় প্রতি বছরই বর্ষার আগে ও পড়ে জল নামার সময় ভাঙন লক্ষ করা যায়। ইংরেজি ক্যালেন্ডারে সবে মাত্র নতুন বছর পরেছে৷ আর বছরের শুরুতেই ভাঙন হাওয়ায় চিন্তিত নদী পাড়ের বাসিন্দারা। এখনই এই নদী ভাঙন রোখা না গেলে আগামী দিনে এর রূপ বৃহৎ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।