কলকাতা ২৪x৭: এক যুগ পার হয়েছে। সেই যে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কনভয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল তার পর রাজনৈতিক পালাবদল হলো কিন্তু ইস্পাত কারখানা আর হয়নি। ভয়ঙ্কর সেই মুহূর্ত পেরিয়ে এখনও পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীর বাসিন্দারা কারখানার স্বপ্ন দেখেন, যেমনটি দেখতে গিয়ে নাশকতার মুখে পড়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী।

শালবনীতে জিন্দাল গোষ্ঠীর ইস্পাত কারখানা হয়নি। বিরোধীদের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্লাবে টাকা দিতে ব্যাস্ত, কর্মসংস্থানে নয়। সেই বিস্ফোরণে বুদ্ধবাবু বাঁচলেও মরেছে বেকারের স্বপ্ন। শালবনীতে ইস্পাত কারখানা যে করা যায়নি তার দায় তাড়া করছে রাজ্য সরকারকে।

নির্বাচনের আগে দুটি নজরকাড়া কর্মসূচি নেয় বিরোধী বামফ্রন্ট। সিঙ্গুরে প্রস্তাবিত টাটা কারখানা ও শালবনীতে জিন্দালদের ইস্পাত কারখানার প্রতীকী শিলান্যাস। হাজার হাজার বাম ছাত্র যুবর সাইকেল মিছিল শালবনী প্রকল্প চত্বর পর্যন্ত যাওয়া রাজনৈতিক চর্চায় উঠে আসে।

এক যুগ আগের কথা, রাজ্যে বাম জমানা। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনি চেয়েছিলেন শিল্পায়ন। দ্রুত রাজনৈতিক কারণে গরম হয়ে যাচ্ছিল।

শালবনী থানা, কেস নম্বর ৮১/০৮, ২.১১.০৮:

নভেম্বরের হাল্কা ঠাণ্ডা ভাব। শালবনীতে ইস্পাত কারখানার শিলান্যাস অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান। শালবনী থেকে মেদিনীপুরের ফেরার পথে ভাদুতলা। ভিভিআইপি কনভয় স্থানীয় একটি খালের ধারে পৌঁছতেই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। মাওবাদীদের এই নাশকতা দেশ জুড়ে ছড়ায় আতঙ্ক। পাইলট কার সহ দুজন পুলিশকর্মী জখম হন।

শুরু হলো জঙ্গলমহল ভিত্তিক মাওবাদী হামলা ও খুনের পর্ব। তৎকালীন বাম সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানো মাওবাদীরা এলাকায় মুক্তাঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে। সরকার সক্রিয় হতেই জন্ম নেয় পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটি। পশ্চিম মেদিনীপুর তখন রক্তাক্ত হতে শুরু করেছে।

তারপরের মুহূর্তগুলি রীতিমতো রক্তাক্ত। পুলিশ প্রশাসনের হাতছাড়া হয়েছিল জঙ্গলমহল বেষ্টিত পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার বিস্তীর্ণ অংশ। বুদ্ধবাবুর কনভয়ের উপর হামলা থেকে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা এখন নেই। তবে ইস্পাত কারখানাও হয়নি। আর জনসাধারণের কমিটির ‘সুপ্রিমো’ ছত্রধর মাহাত এখন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য কমিটিতে এসেছেন।

জিন্দালদের ইস্পাত কারখানা তৈরির চেষ্টা থেকে সরকার পাল্টে যাওয়া মুহূর্তগুলি ছিল রক্তাক্ত পরিবেশ। নির্বাচনের মুখে এসব আলোচনা ঘুরে ফিরে আসছে। শালবনীর শাল জঙ্গলে ঘটে চলেছে ঘনঘটা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.