স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: ‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা’। আদরের ছোট ভাই বা দাদার কপালে দইয়ের ফোঁটা দিয়ে ঘরে ঘরে ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় মেতে ওঠে দিদি বা বোনেরা। মহা সমারোহে গোটা দেশজুড়ে পালিত হয় ভাইফোঁটার মত পারিবারিক সম্প্রীতির উৎসব। আর এই সম্প্রীতির উৎসবে এবার সামিল হতে দেখা গেল পূর্বমেদিনীপুর জেলার তমলুকের নিমতৌড়ী হোমের প্রায় দেড়শো জন আবাসিক ছেলে মেয়েকে।

জানা গিয়েছে, নিমতৌড়ী হোমের ১৫০জন আবাসিক কোনও না কোনও কারনে যারা আজকের এই দিনে নিজেদের ভাইকে ভাই ফোঁটা দিতে বাড়ি যেতে পারেনি। তাদের জন্য প্রতি বছরের মতো এই বছরও হোম কর্তৃপক্ষ নিমতৌড়ী তমলুক উন্নয়ন সমিতির ভাই ফোঁটা দেওয়ার আয়োজন করেছিল।

শুধু তাই নয়, এই বছর ভাই ফোঁটা নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী চিত্তরঞ্জন সামন্ত সহ অন্যান্য প্রশাসনিক ও জনপ্রতিনিধিদের। আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে চিত্তবাবু সহ অনান্যরা হোমে এসে বোনদের থেকে ফোঁটা নেয়। শুধু ফোঁটা নয় ভালোমন্দ খাওয়ার-দাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। হোম আবাসিকারা ও মহিলা কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ দিল ভীষন, অনুষ্ঠান শেষে চিত্তবাবু স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর জীবনের অনেক কথা শোনান, কর্মীদের দেশ গড়ার কাজে যুক্ত হওয়া ও মানুষের সেবা করার কাজে যুক্ত হতে অনুরোধ জানান তিনি।

সব মিলিয়ে ভাইফোঁটার দিনটিতে খুশির আনন্দে মেতে উঠে হোম আবাসিকারা। সংস্থার সম্পাদক যোগেশ সামন্ত জানান, ভাই ফোঁটায় মঙ্গল কামনার সঙ্গে সঙ্গে সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার জন্য প্রতিবছরের আমরা এই উদ্যেগ নিয়ে থাকি। সর্বানী, পূর্ণিমা, সাপলা, নীলা, মর্জিনারা ফোঁটা দিতে পেরে খুশির আনন্দে মেতে উঠে। হোমের সুপার সঞ্চিতা গিরি, আলপনা মাইতি, দেবশ্রী ত্রিপাঠী, মধুমিতা বেরা, উপস্থিত ছিল এই অনুষ্ঠানে।