ওয়াশিংটন : করোনায় কাঁপছে ভারত। মারণ ব্যাধির দ্বিতীয় ধাক্কায় রীতিমতো বেসামাল গোটাদেশ। এই অবস্থায় করোনার ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ভারতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের বহু দেশ। ব্যাতিক্রম নয় আমেরিকাও।

দেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোট তিন দফায় মেডিকেল সরঞ্জাম পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US)। অতিমারীর ছোবল ঠেকাতে সবসময় ভারতকে সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বিডেন (Joe Biden)।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতি রুখতে ভারতকে এত বিপুল পরিমাণের আর্থিক ও মেডিকেল সহায়তা মোটেও ভালো চোখে দেখছেন খোদ মার্কিন আইন প্রণেতারা( Republican lawmakers)।

এই বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য জিম( Jim Jordan) জর্ডান ও ড্যারেল ইসা(Darrell Issa) প্রেসিডেন্ট বিডেনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন যে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে খুব বেশি সহায়তা করার দরকার নেই। এতে আমেরিকার আর্থিক ক্ষতি হয়ে যাবে।

এই বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের মোট ১২ জন আইনপ্রণেতা করোনা মহামারী মোকাবিলায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) সামনে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রস্তাবকে সমর্থন না করার জন্য বিডেন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার এই বিষয়ে ১২ জন আইনপ্রণেতা মিলে মার্কিন বাণিজ্যিক প্রতিনিধি ক্যাথরিন তাইকে একটি চিঠি লিখে জানিয়েছেন, বিশ্বের ৬০ টি উন্নয়নশীল দেশকে মহামারী মোকাবিলায় ক্রমাগত সাহায্য করে গেলে দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের ঘাটতি দেখা দেবে। তাহলে সবাইকে আর টিকা দেওয়া সম্ভব হবে না।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) সকল সদস্যের জন্য বাণিজ্য সম্পর্কিত সম্পত্তির অধিকারের (TRIPS) চুক্তির কিছু অংশ মকুব করার জন্য ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অন্যান্য দেশগুলির অনুরোধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অব্যাহত রাখা উচিত।

শুধু তাই নয়, মার্কিন অর্থনীতি দুর্বল থাকার সময়ে এভাবে প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা সরিয়ে দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কাজ হবে এবং লক্ষ লক্ষ আমেরিকান করদাতাদের ভুল বার্তা দেবে।

রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যরা চিঠিতে আরও বলেছেন, “এই ক্ষতি করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুত এবং ওষুধের যথেষ্ট উৎপাদনকে ব্যাহত করবে। মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রে চাকরি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেআরও বেশি বিপন্ন করবে।”

উল্লেখ্য, গত বুধবার হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয় যে, আপৎকালীন ত্রাণ সরবরাহের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথম বিমানটি ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। খুব শীঘ্রই সেটি ভারতের মাটিতে পৌঁছে যাবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে পাঠানো ওই বিমানটিতে রয়েছে ১০০ কোটি টাকারও বেশি মেডিকেল সরঞ্জাম। করোনা মোকাবিলায় ওই বিমানে ভারতের জন্য পাঠানো হয়েছে ৪৪০ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার, প্রাথমিকভাবে সংক্রমণ শনাক্ত করতে ৯৬০,০০০ টি র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট এবং প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের জন্য ১০০০,০০০ টি ‘এন৯৫’ মাস্ক।

প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বিডেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়তে ভারতকে সৌভ্রাতৃত্বের বার্তা দেন তিনি। মঙ্গলবার ফের এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “যা প্রয়োজন তার সবই পাঠাবে আমেরিকা। রেমডেসিভির ও অন্যান্য ড্রাগ যেগুলি এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়তে পারে সেগুলিও পাঠানো হবে। আমরা সেইসব মেকানিক্যাল জিনিসও পাঠাচ্ছি যেগুলো ভ্যাকসিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়।” কখন ভ্যাকসিন পাঠানো হবে তা নিয়েও মোদীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বাইডেন। তিনি বলেছেন, “এখন সমস্যা হচ্ছে, আমাদের নোভাভ্যাক্স এবং অন্যান্য সম্ভবত ভ্যাকসিনগুলি আসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আমার মনে হয় যে সব দেশের দরকার তাদের সঙ্গে আমরা ভ্যাকসিনগুলি শেয়ার করতে পারব। আমাদের প্রথম অবস্থায় ভারত আমাদের সাহায্য করেছিল।”

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল ভারত। প্রতিদিন ৩ লক্ষের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকার ৪০টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির সিইও-রা একত্রিত হয়ে করোনা বিপর্যয়ের সঙ্কটের মধ্যে ভারতকে সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে এসেছে । করোনা যুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সৌহার্দ্য-র হাত বাড়িয়ে তারা একটি ভারত ভিত্তিক টাস্ক ফোর্স তৈরী করেছে। এর মাধ্যমে করোনা যুদ্ধে ভারতকে লড়াইয়ের জন্য তারা সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগকে এক কথায় ভারতের প্রতি মার্কিন সৌহার্দ্য বললেও অত্যুক্তি হবে না। ইউএস চেম্বার অফ কমার্স-এর ইন্দো -ইউএস বিজনেস কাউন্সিল, ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরাম সোমবার এই সংক্রান্ত একটি বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বলে জানান ডিলয়েটের সিইও পুনিত রেনজেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.