স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আসানসোলের মেয়রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷ রাজ্য সরকারের পক্ষের আইনজীবী অমিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার হাইকোর্টে এ কথা জানান৷ তিনি বলেন, আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিরুদ্ধে পুলিশ এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে৷

ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ভোটের জন্য গত ৭ই এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন আসানসোল বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘড়ুই৷ লক্ষ্মণবাবুর অভিযোগ, সেই সময় এসডিপিও অফিসের সামনে ১২ থেকে ১৫ জন দুষ্কৃতী তাঁর উপর হামলা চালায়৷ এরা প্রত্যেকেই তৃণমূলের লোক৷ লক্ষ্মণবাবুর দাবি, তাঁদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আসানসোল পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি৷ সেদিন ওই দুষ্কৃতীর দল বিজেপি জেলা সভাপতির পেটে ভোজালি ঢুকিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ছিল৷

আরও পড়ুন: চিড়বিড়ে গরম, বাজারদর চড়া, নাজেহাল জামাইষষ্ঠীর বাজার

এই ঘটনায় লক্ষ্মণবাবুর শরীরে ১৮টি সেলাই পড়ে৷ কিন্তু ৮ এপ্রিল অর্থাৎ ঘটনার পরদিন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি ও ঘটনাস্থলে থাকা দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় অভিযোগ করাতে গেলে পুলিশ কোন অভিযোগ নেয়নি৷ এদিকে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হন আসানসোলের ওই বিজেপি নেতা৷ গত ৩০শে এপ্রিল হাইকোর্টে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার মামলা করেন লক্ষ্মণবাবু৷

আসানসোলের বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘডুইয়ের পক্ষের আইনজীবী পার্থ ঘোষ এবং আইনজীবী শুভজিৎ শীল আদালতে জানান, লক্ষ্মণবাবু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন৷ অবিলম্বে তাঁর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আবেদন জানান তাঁরা৷ বিচারপতি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরাসরি পুলিশের কাছে আবেদন না জানানোর কারনে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দিচ্ছে৷ তবে মামলাকারী লক্ষ্মণ ঘডুইয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ যদি সঠিক তদন্ত না করে তা হলে মামলাকারী অবশ্যই আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন৷ মামলাটির নিষ্পত্তি করে দেন বিচারপতি প্রতীকপ্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়৷

আরও পড়ুন: হোটেলে বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে মৃত পাঁচ

গত ১৩ই জুন হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, আসানসোল পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর রুজু করে মঙ্গলবারের মধ্যে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে৷ হাইকোর্টের বিচারপতি প্রতীকপ্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই নির্দেশের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রিপোর্ট জমা দিল রাজ্য সরকার৷