কলকাতা: বিশেষজ্ঞ বা বন্ধুমহলে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘ক্রিকেটের এনসাইক্লোপিডিয়া’ নামে। সুনীল থেকে ইমরান, সোবার্স থেকে শাস্ত্রী, ক্রিকেটারমহলেও বন্ধু হিসেবে তাঁর সঙ্গে সখ্যতা ছিল বহুজনের। গত মাসে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে কলকাতার একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে।

এরপর শরীরে বাসা বাঁধে মারণ করোনা ভাইরাস। ৮০ বছর বয়সে শরীরে মারণ ভাইরাস সংক্রমণই প্রাণ কেড়ে নিল বর্ষীয়ান ক্রিকেট সাংবাদিক কিশোর ভিমানির। বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। স্বভাবতই কিশোর ভিমানির মৃত্যুতে ক্রিকেট এবং সাংবাদিকমহলে শোকের ছায়া।

‘দ্য স্টেটসম্যান’ সংবাদপত্রের হয়ে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছিলেন তিনি। তবে সাংবাদিকতাই কেবল নয়, প্রয়াত কিশোর ভিমানি ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে থেকে যাবেন তাঁর ধারাভাষ্যের জন্যও। ‘ভয়েস অফ ক্রিকেট’ নামেও জনপ্রিয় ছিলেন কলকাতাপ্রেমী মানুষটি।

কেবল ক্রিকেট নয়, সবধরনের খেলাধূলার প্রতিই তাঁর ছিল অগাধ জ্ঞান। দশকের পর দশক সাংবাদিকতার কারণে একাধিক পুরস্কার পেয়েছিলেন প্রয়াত কিশোর ভিমানি। এর মধ্যে ২০১২ এইচ অ্যান্ড জি ক্লিনিক জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড সংগ্রহ করেন তিনি। যেখানে তাঁকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। যদিও তিনি এসব পুরস্কারে বিশ্বাসী ছিলেন না।

‘দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল গুডম্যান’র স্রষ্টা জানিয়েছিলেন, ‘একজন সাংবাদিক যেহেতু কারও পক্ষ নিয়ে কথা বলতে পারে না তাই সাংবাদিকদের পুরস্কার প্রদান করা উচিৎ নয়।’ প্রয়াত কিশোর ভিমানি রেখে গেলেন তাঁর স্ত্রী রীতা ভিমানি এবং পুত্র গৌতম ভিমানিকে।

তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার বিষেণ সিং বেদী, সাংবাদিক রাজদীপ সারদেশাই, ক্রীড়া সাংবাদিক বোরিয়া মজুমদার সহ অনেকে। বিষেণ বেদী টুইটে লিখেছেন, ‘ওল্ড ফ্যাশন যে সকল ক্রিকেট লিখিয়ে ছিলেন গৌতম ভিমানি তাদের মধ্যে অন্যতম।

একজন খেলোয়াড় তার খেলাকে ঠিক যে চোখে দেখে, তিনিও ক্রিকেট নিয়ে লেখালেখিকে সেই পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। উনার স্ত্রী গীতা এবং পুত্র গৌতমের প্রতি সমবেদনা রইল।’ ভারতীয় দলের কোচ রবি শাস্ত্রী একবার এক সাক্ষাৎকারে কিশোর ভিমানিকে নিয়ে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন।

ইডেন গার্ডেন্সে একটি টেস্ট ম্যাচে বিশ্রী শট খেলে আউট হয়েছিলেন শাস্ত্রী। এক ধারাভাষ্যের দৃষ্টিকোন থেকে শাস্ত্রীকে ওই খারাপ শটের ভুল ধরিয়ে দিয়েছিলেন প্রয়াত কিশোর ভিমানি। অথচ ওইদিন সন্ধেবেলা ভিমানির বাড়িতে গিয়ে ড্রিংক করেছিলেন শাস্ত্রী। ক্রিকেটারদের সঙ্গে এমনই বন্ধুত্ব ছিল সদ্য প্রয়াত বর্ষীয়ান সাংবাদিকের।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।