নয়াদিল্লি: শেষ বেশকিছুদিন যাবতই বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। ট্রোল ভূলে দেশভক্তি দিয়ে দেশের মানুষের মন জিতেছেন। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে এক তীব্র উত্তেজনার সময় ভারতকে যুদ্ধে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বিরুদ্ধে। একপক্ষ কাটতে না কাটতেই পাকিস্তানের মানবাধিকার মন্ত্রী শিরীন মাজারি রাষ্ট্রসংঘকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে ইউএন গুডউইল অ্যাম্বাসেডর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য।

চিঠিতে স্পষ্ট লেখা হয়েছে, “মিস চোপড়া প্রকাশ্যে কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থানের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পাকিস্তানকে জানানো পরমানু হুমকিতেও সমর্থন জানিয়েছেন। এই সবকিছুই রাষ্ট্রসংঘের শান্তির দূত ও গুডউইল অ্যাম্বাস্যাডর হিসেবে আদর্শ-বিরোধি কাজ।”

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও লিখেছেন, “আমি একটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছি। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যাকে আপনারা শান্তির নিরিখে রাষ্ট্রসংঘের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ের ভারত অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তার মূলে রয়েছে মোদী সরকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন। তাঁরা ভূলেই গেছেন তারাও সই করেছেন। রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের গৃহীত সঙ্কল্প যা ভাঙা হয়েছে। পাশাপাশি ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে মুসলমানদের হটিয়ে দেওয়ার অভিযান চালাচ্ছেন।”

এই একই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মোদী সরকার অসমের চার লাখ মুসলমানের নাগরিকত্বকে অস্বীকার করছেন। নাজি ক্যাম্পে পরিণত করেছেন। ভারতীয় সেনারাও আন্তর্জাতিক সীমানায় গুলির ব্যভার জারি রেখেছে। মহিলা ও শিশুদের ওপর অত্যাচার। বিজেপির নীতিকে মাজারি নাজি নিয়মের সাথে তুলনা করেছেন যেখানে জাতিগত নিকেশ, বিদ্বেষ, ফ্যাসিসম, গণহত্যা স্থান পেয়েছে।

কিছুদিন আগে লস এঞ্জেলেসে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যখন সৌন্দর্য বিষয়ক এক সম্মেলনে হাজির হন, তখন সেখানে এক পাকিস্তানি-আমেরিকান নারী তাকে ‘ভণ্ড’ বলে অভিহিত করেন। প্রিয়াঙ্কা গত ফেব্রুয়ারি মাসে ‘জয়-হিন্দ#ইন্ডিয়ান-আর্মড-ফোর্সেস’ লিখে টুইট করেছিলেন। সে সময় দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা চলছিল।

সেই অনুষ্ঠানে আয়েশা মালিক নামে এক পাকিস্তানি-আমেরিকান নারীর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাকে। ওই নারী বলেন, ‘আপনি যখন মানবতার কথা বলেন, তখন সেটা শুনতে বেশ খারাপ লাগে, কারণ আপনার প্রতিবেশী হিসেবে, একজন পাকিস্তানি হিসেবে আমি জানি, আপনি একজন ভণ্ড।’ আয়েশা মালিক তার সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার এই কথাবার্তার ভিডিও ট্যুইটারে পোস্ট করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার টুইটের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “আপনি ইউনিসেফের শান্তির দূত। আর আপনি কিনা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরমাণু যুদ্ধে উৎসাহ দিচ্ছেন। এই যুদ্ধে তো কেউ জয়ী হবে না।” এ কথা বলার পর আয়েশা মালিকের হাত থেকে মাইক কেড়ে নেয়া হয়। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ২০১৬ সাল থেকে ইউনিসেফের শান্তির দূত।

আয়েশা মালিকের কথার জবাবে তিনি বলেন, পাকিস্তানে তার অনেক বন্ধু আছে এবং তিনি যুদ্ধের পক্ষে নন। কিন্তু তিনি একজন দেশপ্রেমিক। এক বছরের শুরুতে যখন এক হামলায় ৪০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়, তখন ভারত আর পাকিস্তানের সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটে। পাকিস্তান ভিত্তিক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়।

এর প্রতিশোধ নিতে ভারত যখন পাকিস্তানের ভেতর হামলা চালায় তখন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া টুইট করে তার প্রশংসা করেছিলেন। আয়েশা মালিকের অভিযোগের উত্তরে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেন, ‘পাকিস্তানে আমার অনেক বন্ধু আছে। আমি ভারতের লোক। আমি যুদ্ধের ভক্ত নই, কিন্তু আমি দেশপ্রেমিক। কাজেই আমার কথা শুনে যদি আমাকে ভালোবাসে এমন কারও অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, আমি দুঃখিত। আমি মনে করি আমাদের সবাইকে আসলে একধরনের মাঝামাঝি পথে হাঁটতে হবে।’

তবে প্রিয়াঙ্কা বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তা ম্যানেজ করে নেন। উত্তেজিত হয়ে না বলে খুব সুন্দরভাবে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। আয়েশার উৎসাহ ও এই প্রশ্নের জন্য ধ্ন্যবাদও জানিয়েছিলেন।