লাদাখ: লাদাখে বসে আছে চিনের সেনা। কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে বেজিং। রীতিমত সংঘাতের আকার নিয়েছে সীমান্তে। নয়াদিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে সেই সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে।

আর সেই চিনা দ্রব্যে ছেয়ে আছে গোটা দেশ। মোবাইল, সফটওয়্যার থেকে বাজারে অনেক ছোটোআটো জিনিসেই লেখা থাকে ‘মেড ইন চায়না’। আর এই পরিস্থিতিতে সেই সমস্ত চিনা দ্রব্য বর্জনের কথা বললেন লাদাখের সেই গবেষক সোনম ওয়াংচুক। যার চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তৈরি হয়েছিল ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর র‍্যাঞ্চো।

সম্প্রতো একটো ভিডিও করে দেশের মানুষের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তিনি। যাতে চিনা দ্রব্য দ্রুত বর্জন করা হয়। লাদাখেই থাকেন তিনি। সেখানে বসেই বানিয়েছেন ওই ভিডিও। ভারত-চিন সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, চিনকে জবাব দেওয়া উচিৎ দেশের সব মানুষের।

তাঁর কথায়, ‘আমরা রাতে ঘুমোই এটা ভেবে যে, সেনাবাহিনী তো জবাব দেবে। কিন্তু এবার জবাব দু তর থেকে দিতে হবে। সাধারণ মানুষকেও পদক্ষেপ নিতে হবে।’ তাঁর মতে, এভাবে চিনা দ্রব্য বর্জন করলে চিনের অর্থনীতি ধাক্কা খাবে, আর সেটাই বেজিংয়ের সবথেকে বড় ভয়।

হিসেব কষে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে চিন ভারতের বাজারে ব্যবসা করছে। তাই চিনকে কার্যত ভাতে মারার কথা বলছেন বাস্তবের র‍্যাঞ্চো।

তিনি দেখিয়েছেন, ভারত প্রত্যেক বছর ৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিময়ে চিনা দ্রব্য আমদানি করে। আর সেই টাকাতেই ওরা নিজেদের অর্থনীতি চাঙ্গা করছে। চিনের সবথেকে বড় ভয় ওদের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো যেন ভেঙে না পড়ে। আর সেরকম হলে চিনাদের রাগ আরও বেড়ে যাবে সরকারের প্রতি। সে দেশের জনতা বিদ্রোহী হয়ে উঠবে। এটাই ওদের মূল ভয়। তাই সবার আগে ওদের অর্থনীতিতেই মোক্ষম ঘা দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য সোনমের।

তিনি বার্তা দিয়ে বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে চিনা সফটওয়্যারের ব্যবহার বন্ধ করা উচিৎ। এক বছরের মধ্যে হার্ডওয়্যারও বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ।

তিনি নিজেও ফোন থেকে সব চিনা অ্যাপ সরিয়ে দিচ্ছেন এমনকি চিনা ফোন ব্যবহার করাই ছেড়ে দেবেন দ্রুত। এক বছরের মধ্যে তিনি Made In China লেখা সব জিনিস বর্জন করবেন। যাতে ওইসব জিনিসের বিকল্প তৈরি হবে বা অন্যান্য দেশ থেকে আনা সম্ভব হবে, ততদিন পর্যন্ত সময় নেওয়ার কথা বলছেন তিনি।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব