কলকাতা: বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হল সদ্য প্রয়াত নবনীতা দেবসেনকে নিয়ে স্মরণসভা। ওইদিন বিকেল ৫টায় রবীন্দ্রসদন প্রেক্ষাগ্রহে তাঁর পরিবার ও দে’জ পাবলিশিং-এর পক্ষ থেকে স্মরণসভাটির আয়োজন করা হয়। দে’জ পাবলিশিং-এর কর্ণধার অপু দে-র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে নবনীতা দেবসেনের সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থ ‘ভালোবাসার বারান্দা’ শঙ্খ ঘোষের হাতে তুলে দেন দুই মেয়ে নন্দনা এবং অন্তরা।

এরপর নবনীতা দেবসেনকে নিয়ে স্মৃতিচারণ এবং তার স্মৃতির উদ্দেশে একটি গান পরিবেশন করেন পবিত্র সরকার। পবিত্র সরকারের পর নবনীতা দেবসেনের কবিতাপাঠ করেন কবি জয় গোস্বামী। কবিতাপাঠের আগে তিনি বলেন, “কবিতা তাঁর প্রথম আত্মপ্রকাশের মাধ্যম। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি কবিতা লিখে গিয়েছেন। শিল্পের সব রকম শাখায় তাঁর বিরচণ ছিল আবাধ। তিনি যে শুধু নিজে সাহিত্য করতেন তা নয়, তাঁর চাইতে বয়সে অনেক ছোট, যেমন আমরা আমাদেরও তিনি উৎসাহিত করতেন এবং প্রেরণা দিতেন। কোনও লেখা পছন্দ হলে সেটা জানাতেন। সেটা যে আমাদের কাছে কত বড় পাওনা ছিল তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মাত্র বাইশ-তেইশ বছর থেকে তাঁর কাছ থেকে উৎসাহ পেয়েছি। আমার মাথার ওপর থেকে যেন বড় একটা ছায়া সরে গেল।”

শঙ্খ ঘোষের পর কবিতাপাঠ করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এরপর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অপর্ণা সেন বলেন, “নবনীতাদি সম্পর্কে ভাবতে গেলে আমার শেক্সপিয়ারের লাইন মনে আসে, বয়স তাকে বাঁধতে পারে না, সে নিরন্তর। তিনি চলে গেলেন বিজনীর মতো, ক্যান্সারের মুখে তুড়ি মেরে। যে মানুষ মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে হাসতে হাসতে বলতে পারে, আমি কোনও কিছুকেই কানাকড়ি পরোয়া করি না, তার সামনে কী বলা যায়? আমি শুধু জানি যে উনি আমাকে ভালবাসতেন খুব। খুব দেখা হত না, কিন্তু খুব সমমনা মানুষ ছিলাম আমরা। এক ধরণের নারীবাদে দু’জনই বিশ্বাস করতাম।”

এরপর নবনীতা দেবসেনকে নিয়ে লেখা দুটি কবিতা পাঠ করেন শ্রীজাত। অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন শ্রীকান্ত আচার্য, মৌসুমী ভৌমিক প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত, বুদ্ধদেব গুহ, চিন্ময় গুহ, স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায় সহ-আরও অনেকে। স্মরণসভা উপলক্ষে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছে দে’জ পাবলিশিং। এতে নবনীতা দেবসেনকে নিয়ে লিখেছেন অমর্ত্য সেন, শঙ্খ ঘোষ, অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, সদ্য নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ