নয়াদিল্লি: পুলওয়ামার জঙ্গি হানায় নিহত শহিদ জওয়ানদের পরিবারে লোকেদের শিক্ষা এবং জীবন ধারণের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করল রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন৷ সংস্থার পক্ষ থেকে বিবৃতিতে জানান হয়েছে, এই শহিদদের প্রতি কৃতজ্ঞতাবশত রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন তাদের পরিবারের সদস্যদের শিক্ষা এবং চাকরির ব্যবস্থা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে৷

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হল মুকেশ অম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ-এর একটি সংস্থা যা জনহিতৈষিমূলক কাজ করে৷ পাশাপাশি জানান হয়েছে, তাদের হাসপাতাল সব সময় তৈরি রয়েছে আহত জওয়ানদের চিকিৎসার জন্য৷
বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গিহানায় ৪০জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়৷ এই ঘটনার পরে গোটা দেশে নেমে আসে শোকের ছায়া৷ গোটা দেশ যখন আবেগে ভাসছে তখন কিন্তু রিলায়েন্সের সঙ্গে পাকিস্তানে ব্যবসা করা নিয়ে বিতর্ক ওঠে৷

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার কিছুক্ষণের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে উদ্বোধন হয় পাকিস্তান সুপার লিগে। আর পাকিস্তানের এই টি-টোয়েন্টি লিগের সম্প্রচারের বরাত ইতিমধ্যেই জুটেছে আইএমজি-রিলায়েন্সের ৷ দেখা গেল জঙ্গিহানার পর পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে দেশজুড়ে ফের চাপান উতোর শুরু হলেও পাকিস্তানের রিলায়েন্স গোষ্ঠীর ব্যবসায়ে কোন ছেদ পড়ছে না। ফলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই খবর ছড়ানোর পরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নানা কু মন্তব্য চলতে থাকে৷

পাকিস্তান সুপার লিগের গ্রুপ লিগ ম্যাচগুলি আমিরশাহিতে হলেও তার পরবর্তী ম্যাচগুলি কিন্তু হবে পাকিস্তানেই। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফাইনাল পর্যন্ত সেই সব ম্যাচের সম্প্রচার করার কথা আইএমজি-রিলায়েন্সের। গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত রিপোর্ট এই সম্প্রচারের স্বত্ব পাওয়ার পরে নাকি পাকিস্তানে গিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছিল আইএমজি-রিলায়েন্সের কর্মীরা।

দেখা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই দেশপ্রমের প্রমাণ দিতে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে করাচি সফর বাতিল করেছেন জাভেদ আখতারও-শাবানাআজমি৷ তাছাড়া দু’দেশের মধ্যে ক্রিকেট সম্পর্ক এখনও এতটাই খারাপ যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ রয়েছে ২০১৩ সালের পর থেকে। এরপর পুলওয়ামার এমন ঘটনার পর এখন সে রকম সিরিজ কোনও রকম শুরুর সম্ভাবনাও নেই তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ কিন্তু বড় অদ্ভূত ভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে রিলায়েন্সের ব্যবসা কিন্তু বন্ধ থাকছে না৷ এই পরিস্থিতিতে সেই বিষয়ে এখন কোনও বিবৃতি না এলেও পরিস্থিতি ব্যালান্স করতেই রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন শহিদ পরিবারকে সাহায্যের কাজে এগিয়ে এল বলে মনে করেছে বিভিন্নমহল৷