মুম্বই: বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে রেখা উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। তাঁর চিরকালীন সৌন্দর্যে মুগ্ধ হননি এমন মানুষ খুব কমই রয়েছে। কেরিয়ার যে সময় শুরু করেছিলেন তাঁর থেকে কোনও অংশে রেখার রূপ ঔজ্জল্য কমে যায়নি এখনও। এক সময় বলা হত খ্যাতি এবং সুনাম অর্জনের জন্য বহুদূর যেতে পারতেন রেখা। বড় পর্দার ক্যানভাসে নানা চরিত্রে তাকে লাগালেও তিনি আসলে কেমন তা নিয়ে বরাবরই রহস্য থেকে গিয়েছে।

৬৫ বছর বয়সে তাঁর সৌন্দর্যে কোনরকম ঘাটতি পড়েনি। সেই একই লাবণ্য, একি কালো হরিণ-চোখ, এক ঢাল কালো লম্বা চুল, তন্বী চেহারা এবং সেই ব্যক্তিত্ব যা এক লহমায় মানুষকে মুগ্ধ করে দিতে পারে। তবে এই চিরযৌবনা লাস্যময়ীকেও একসময় খুনির তকমা পেতে হয়েছিল। প্রায় ধ্বংস হতে বসেছিল তার কেরিয়ার। কিন্তু সেই খারাপ দিন অতিক্রম করে একইভাবে ভক্তদের মনে থেকে গিয়েছেন রেখা।

আরও পড়ুন: বিজ্ঞানে ডক্টরেট প্রথম ভারতীয় মহিলা, নজির গড়েছিলেন এই বাঙালি

মুকেশ আগারওয়াল এর সঙ্গে বিয়ে হয় রেখার। দিল্লিতে প্রথম দেখা হয়েছিল দুজনের। তারপরে প্রেম এবং বিয়ে। রেখার সঙ্গে মুকেশের বিয়েতে হৃদয় ভেঙেছিল বহু পুরুষের। আবার অনেকেই ভেবেছিলেন, বেশ কয়েকটি পরপর সম্পর্ক ভাঙার পর অবশেষে হয়ত মনের মানুষ খুঁজে পেয়েছেন রেখা। কিন্তু সুখের দিন বেশিদিন সহায় হলো না। বিয়ের ৭ মাস পর ১৯৯০ সালে আত্মঘাতী হন মুকেশ আগারওয়াল। ফ্যানের সঙ্গে রেখার একটি ওড়না ব্যবহার করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ৩২৩ বছরের পুরনো দুর্গা পুজো হয় রিয়ার আদি বাড়িতে, সত্যি জানতে চায় পুরুলিয়ার বাগমুণ্ডি

এই ঘটনার সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন রেখা। ফোনেই স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়েছিলেন। রেখা বুঝতে পারলেন আরো একবার অতল সমুদ্রের মাঝে এসে তিনি পড়েছেন। সেইসময় বুঝেছিলেন বড় সংকটে পড়েছেন তিনি। সেই সময় রেখার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়নি ভারতের অধিকাংশ মানুষ। বরং তার দিকেই আঙুল উঠেছিল।

রেখাকে এই ঘটনায় ভিলেন বলে তকমা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বিষয়ে এমন মন্তব্য করা হচ্ছিল যেন দেশজুড়ে ডাইনি শিকারে উদ্যত হয়েছে মানুষ। রেখার শ্বশুরবাড়ির মানুষজনও বিশ্বাস করতেন যে রেখার জন্যই এমন ঘটেছে। মুকেশ আগারওয়ালের মা সে সময় বলেছিলেন, “ওই ডাইনি আমার ছেলেকে খেয়েছে।”

মুকেশের ভাই বলেছিলেন, “রেখাকে সত্যি ভালোবাসতো মুকেশ। ও ভালোবাসার জন্য যা খুশি তাই করতে পারত। রেখা ওর সঙ্গে যা করছিল তা ও সহ্য করতে পারেনি। এখন ও কী চায়? এখন কি আমাদের টাকা চায়?”

আমেরিকা থেকে ফেরার পর প্রচুর ঘৃণার সম্মুখীন হয়েছিলেন রেখা। সংবাদমাধ্যমেও তার সম্পর্কের নানা রকমের মন্তব্য করা হয়েছিল। মুকেশ আগারওয়াল এর মৃত্যু বেশ কয়েকদিন সংবাদমাধ্যম জুড়ে শিরোনামে জায়গা পাচ্ছিল। এমনকি রেখার ছবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছিল। রেখার সহ-অভিনেতা অনুপম খের তখন বলেছিলেন, “জাতীয় ভিলেনের জায়গায় এখন রেখা। আমি জানিনা ওর সম্মুখীন হলে আমি কিভাবে ওর সঙ্গে কথা বলব।”

আরও পড়ুন: বাড়িতেই মাছ চাষে মাসে লাখ টাকা আয়, পথ দেখাচ্ছেন কল্পনা

পরিচালক সুভাষ ঘাই বলেছিলেন, “কাজের জগতে কঠিন সময় এটা ওর জন্য। কোনো ভাল পরিচালক ওর সঙ্গে আর কাজ করবে না। মানুষ কিভাবে ওকে ভারতীয় নারী অথবা ইনসাফ কি দেবী হিসেবে গ্রহণ করবে?”

যদিও জানা যায় মুকেশ আগারওয়াল অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। তার পরিবারে কিছু সমস্যা থাকায় তিনি অবসাদগ্রস্ত ছিলেন এবং বিয়ের পর রেখা তা জানতে পারেন। তার আচরণীয় কিছু অদ্ভুত জিনিস সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলেছিল। সেই সময় রেখা সেই সম্পর্কটি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

আর তাই মুকেশের থেকে দূরে চলে গিয়ে সমস্ত যোগ যোগাযোগ বন্ধ করে দেন রেখা। রেখার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি মুকেশ আগারওয়াল। তিনি নাকি আত্মহত্যাপ্রবণও ছিলেন বহুবার। জানিয়েছিলেন মুকেশের ইয়াক বন্ধু নীরজ। জীবন থেকে কোনও মানে খুঁজে পাচ্ছিলেন না আর।

সেই সময় এই ঘটনা নিয়ে বহু ঘৃণার সম্মুখীন হলেও নিজে চুপ ছিলেন রেখা। সমস্ত কিছু এড়িয়ে গিয়ে নিজের কাজ করে যাচ্ছিলেন। ফুল বনে অঙ্গারে ছবিতে অভিনয় করেছিলেন একজন পুলিশের ভূমিকায়। সেই ছবিটি গ্রহণ করেছিলেন দর্শকরা। সেখান থেকেই সাহস পেয়েছিলেন যে , তার জীবন থেমে যায়নি। ছবিতে কম কাজ পেলেও, অথবা ইন্ডাস্ট্রিতে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হলেও রেখা আজও বলিউডে ঐতিহ্য হিসেবে থেকে গিয়েছেন।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।