স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রয়াত হলেন ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক ডাঃ আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা। বার্ধক্যজনিত কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এমনই খবর রটে গিয়েছে। অথচ তিনি দিব্যি আছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর ছড়ায় যে, বুধবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন রেজ্জাক মোল্লা। জীবনাবসানের খবরে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে শেষশ্রদ্ধা জানান সিপিএম নেতা রশিদ গাজী, তুষার ঘোষ সহ অন্যান্যরা। এদিকে নিজের মৃত্যুর খবর শুনেই প্রথমে হো হো করে হাসলেন রেজ্জাক মোল্লা।

কলকাতা 24×7-কে তিনি বললেন, “প্রচুর ফোন আসছে। আগের পার্টিরও অনেকে ফোন করছে। গ্রামের লোকেরা খবর নিতে আসছে। খুব মজা লাগছে। এখনও যে আমাকে এত লোক ভালবাসে সেটা ভেবেই ভাল লাগছে।” সেইসঙ্গে তিনি বলেন, “মরে গেলে যে আমাকে নিয়ে অনেক খবর হবে, এটা ভেবেও ভাল লাগছে।”

তবে সমস্যা হয় অন্য জায়গায়! নামের বিভ্রাট ঘটেই এই কাণ্ড ঘটে। আদৌতে প্রয়াত হয়েছেন ভাঙড়ের প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক ডা. আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা। আর একাংশ মনে করে রাজ্যের মন্ত্রী রেজ্জাকসাহেবের প্রয়াণ ঘটেছে! আর তাতেই এই বিপত্তি ঘটে। যদিও সেই সমস্যা মেটায় একমাত্র kolkata24x7

বঙ্গ-রাজনীতিতে চাষার ব্যাটা নামে পরিচিত রেজ্জাক। তিনিই একমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তি যিনি জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরপর তিনটি সরকারেরই মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন৷ এককালে রাজ্য সিপিএমের প্রথম সারির নেতা ছিলেন রেজ্জাক মোল্লা।

১৯৭২ সালে প্রথম ভাঙড় থেকে লড়ে বিধায়ক হন রেজ্জাক। ১৯৭৭ ক্যানিং পূর্ব থেকে জেতেন আবার জেতেন তিনি। পরের ভোটেই জিতে মন্ত্রী হন রেজ্জাক। বাম আমলে সামলেছেন ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের মন্ত্রীর দায়িত্ব। সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বুদ্ধদেবের সঙ্গে মতবিরোধ চরমে ওঠে রেজ্জাকের।

দলবিরোধী কথা বলার জন্য সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হন রেজ্জাক মোল্লা। ওই বছরই ভারতীয় ন্যায় বিচার পার্টি নামে নতুন দল গড়েন তিনি। কিন্তু, দু’বছর পর সেখান থেকেও বহিষ্কৃত হতে হয় তাঁকে। এরপর তৃণমূলে যোগ দেন রেজ্জাক। এখন তিনি তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের মন্ত্রী।

তবে কদিন আগে তৃণমূলের মন্ত্রীসভার আরও সদস্যের মৃত্যুর খবর নিয়ে গুজব রটে। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা মারা গিয়েছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ায়।

এমনকি বিকেলে নবান্নে তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে মন্টুরামের মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়। কিছুক্ষণ পর দফতরের আধিকারিকরা জানতে পারেন দিব্যি রয়েছেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাহার করা হয় শোকবার্তা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।