স্টাফ রিপোর্টার: এভাবেই আগাছায় লুকিয়ে থাকে পুরনো কোনও অভিমানী পথ৷ সে ভাবে নিশ্চয়ই একদিন কেউ আবার তাকে খুঁজে নেবে৷ হঠাৎ কোনও পথচারির চোখের ‘ভুলে’ ফিরবে হারানো পরিচিতি৷ যেভাবে ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা প্রচারে গিয়ে অতীন ঘোষ খুঁজে পেলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোড ও গণেন্দ্র মিত্র লেনের মাঝের এই গলিটি৷

কলকাতা পুরনিগমের স্বাস্থ্যবিভাগের মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ৷ সম্প্রতি ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ি বাড়ি সচেতনতা কর্মসূচিতে বেরিয়েছিলেন৷ এরইমধ্যে হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ে ৩৫ বছর আগে শহর কলকাতার বুক থেকে হারিয়ে যাওয়া একটি রাস্তা৷ যা নিয়ে রীতিমত চর্চা শুরু হয়েছে৷ নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী কিছুদিন আগে কলকাতা পুরনিগমের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজের ওয়ার্ডে বেরিয়েছিলেন৷

বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রচার অভিযান চালাচ্ছিলেন৷ বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বাড়ির ভিতরে ঢুকে চৌবাচ্চা, ছাদের কোনে রাখা জলের ট্যাঙ্কও নিরীক্ষণ করেন৷ এরকমই একটি বাড়ির ছাদে জলের ট্যাঙ্ক দেখতে উঠে হঠাৎই তাঁর নজরে আসে কিছু দূরে একটা বড় পাঁচিল৷ আর পাঁচিলের ওপার থেকে প্রায় ৭০ মিটারের মত একটি রাস্তা আগাছা, জঙ্গলে ভরে গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: যোগার জন্য সীমান্তে হাজির সেনা জওয়ানরা

রাস্তাটি নিয়ে কৌতূহল হয় অতীন ঘোষের৷ তিনি এলাকার প্রবীণ নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলেন৷ সেখান থেকেই উঠে আসে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য৷ আটের দশকে সমাজবিরোধীদের দাপটে হারিয়ে যাওয়া উত্তর কলকাতার এক গলির কথা৷ হারিয়ে যাওয়া গলি আবিষ্কারের পর অতীন ঘোষ মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বিষয়টি জানান৷

সতীর্থ কাউন্সিলর তথা জঞ্জাল বিভাগের মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদারকে অবিলম্বে ওই পথ মানুষের যাতায়াতের উপযোগী করে তোলার অনুরোধ করেন৷ তাঁর অনুরোধেই জঞ্জাল অপসারণ বিভাগের কর্মীরা আগাছা, জঞ্জাল সাফাই করে এই রাস্তা খুলে দিলেন ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য৷ আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রোড ও গণেন্দ্র মিত্র লেনের সংযোগস্থলে খুঁজে পাওয়া এই গলির নাম অতীনবাবু দিয়েছেন ‘নতুন পথ’৷

আরও পড়ুন: হোটেলে বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে মৃত পাঁচ

আগামী রবিবার ইতিহাস জর্জর এই ‘নতুন পথের’ ফের চলা শুরু হবে৷ অতীন বাবু বলেন, ‘‘১৯৮৩ সালে এই অঞ্চলে সমাজবিরোধীদের দাপট ছিল৷ সমাজবিরোধীরা পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে গণেন্দ্র মিত্র লেনের কাছে পাঁচিল গেঁথে এলাকাবাসীর চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়৷ ৩৫ বছর ধরে গলিটি আবর্জনা ফেলার জায়গা ও অসামাজিক কাজকর্মের স্থান হয়ে ওঠে৷’’

একটা সময়ের পর পল্লিবাসী এই রাস্তার অস্তিত্বই ভুলে যান৷ সম্প্রতি ডেঙ্গু সচেতনতা অভিযানে বেরিয়ে ফের তা নজরে পড়ে অতীন ঘোষের৷ তিনি জানান, ‘‘গলিটিতে ইতিমধ্যেই নতুন আলো বসানো হয়েছে৷ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোড ও গণেন্দ্র মিত্র লেনের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই গলি এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধা করে দেবে৷” পাশাপাশি রসিক অতীনবাবুর সরস মন্তব্য, ‘‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি ডেঙ্গু সচেতনতা অভিযান গেলে এ শহরের বুকে অনেক হারিয়ে যাওয়া রাস্তাই খুঁজে পাবেন৷’’