স্টাফ রিপোর্টার: রাজ্যের তিনটি কেন্দ্রে উপ-নির্বাচনে জয়জয়কার তৃণমূল কংগ্রেসের৷ তমলুক ও কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্র ও মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্র জিতে তিনে তিন শাসক দল৷ তিনটি কেন্দ্রের তিনটিতেই জামানত বাজেয়াপ্ত হল কংগ্রেসের।তিনটি কেন্দ্রের দু’টিতে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বামেদের। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে তমলুকে বিজেপির ভোট বৃদ্ধি তো চোখে পড়ার মতো৷তমলুকে এবার ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়েছে বিজেপি। গত বিধানসভা নির্বাচন ও লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় তাদের ভোট বেড়েছে এক লাখেরও বেশি। গত দুটি নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে বিজেপির ভোট। নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি।

তবে বিজেপির এই ভোট বৃদ্ধিতে আমল দিতে নারাজ তৃণমূল৷ পূর্ব মেদিনীপুরে অধিকারী পরিবারের সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, উপনির্বাচনে তাদেরও ভোট বৃদ্ধি ঘটেছে৷ এর একমাত্র কারণ তাদের ভালো কাজ৷ যা দেখে খুশী হয়ে সাধারণ মানুষ ভোট দিয়েছেন৷ এই উপনির্বাচনের আগেই বহিষ্কৃত সিপিএম নেতা  তথা একসময়ের হলদিয়ার বেতাজ বাদশা লক্ষ্মণ শেঠ যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে৷সেই প্রভাবও কী কাজ করেছে তমলুকে বিজেপির ভোট বৃদ্ধিতে? শুভেন্দু অধিকারীর সপাট উত্তর, লক্ষ্মণ শেঠ আগেও কোনও ফ্যাক্টর ছিলেন না, এখনও নেই৷

সিপিএমের শোচনীয় হারের পরে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক অবশ্য বিজেপির বাড়বাড়ন্তের মধ্যে তৃণমূল-বিজেপি আঁতাত কেই দায়ী করেছেন৷ ট্যুইট করে সূর্যকান্ত মিশ্রের বক্তব্য, বামেদের ধ্বংস করতে বিজেপিকে জায়গা করে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তির একজোট হওয়ার সময় এসেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যে তৃণমূল বিরোধীরা আগে বাম কিংবা কংগ্রেসকে ভোট দিত, সম্ভবত তাদের দৈন্যদশা দেখে, এখন সেই ভোটাররা বিজেপির দিকে ঝুঁকছে। যে কারণে, বাম-কংগ্রেসের ভোট যত কমছে, বিজেপির তত বাড়ছে।