সিডনি: এমন দৃশ্য এই প্রথমবার দেখা যাচ্ছে এমন নয়, আগেও দাবানলের আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখা গিয়েছে। তবে এবার সেই চেহারা আরও ভয়ঙ্কর। অস্ট্রেলিয়ার আকাশের রঙ দেখলে চমকে যেতে হবে। এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মানুষ স্বাভাবিকভাবে নিশ্বাস নিতে পারছেন না সেখানে। দোকানেও আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে। কয়েক সপ্তাহ ধরে দাবানলে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়ার একাংশ। ১ কোটি একর জমি ধ্বং স হয়ে গিয়েছে আগুনে।

দমকা হাওয়ায় হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে আগুন। আর তার জেরেই আটকে পড়েছে বহু মানুষ। বাড়ি ছেড়ে সমুদ্র সৈকতে আশ্রয় নিতে হয়েছে মানুষজনকে। ৪০০০ মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। শহর জুড়ে এমার্জেন্সি সাইরেন বাজানো হচ্ছে ভোর থেকেই।

প্রশাসনের ক্রমাগত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসার বদলে বেড়েই চলেছে। হাওয়ার দাপট এতটাই বেশি, উল্টে যাচ্ছে ট্রাক। আর তাতেই প্রাণ হারিয়েছেন এক দমকলকর্মী।

অস্ট্রেলিয়ার চারটি প্রদেশে দাবানলের ধ্বংসলীলা সবচেয়ে বেশি। তার মধ্যে অন্যতম ভিক্টোরিয়া। সেখানে প্রবল হাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে পর্যটক ও স্থানীয়দের অন্যত্র সরানোর নির্দেশ জারি হয়েছে। ভিক্টোরিয়ার সীমান্তবর্তী আলবারিতেই সোমবার ঘটে দুর্ঘটনা। সেখানে আগুন নেভানোর কাজে গিয়েছিলেন নিউ সাউথ ওয়েলসের ‘রুরাল ফায়ার সার্ভিসে’র কর্মীরা। প্রবল হাওয়ায় তাঁদের দু’টি ট্রাক ধাক্কা খায়, মৃত্যু হয় ট্রাকে থাকা এক দমকলকর্মীর। অন্য দুই দমকলকর্মী আংশিক দগ্ধ হয়েছেন।

চলতি বছরে অস্ট্রেলিয়ার দাবানল ইতিমধ্যেই ১০ জনের প্রাণ কেড়েছে। ভস্মীভূত বিস্তীর্ণ বনভূমি। মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা। সোমবারই অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ প্রদেশের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এত গরম ডিসেম্বর এর আগে দেখেনি অস্ট্রেলিয়া।

ভিক্টোরিয়ার সোমবারই নতুন করে ৭০টি জায়গায় আগুন লাগে। ২০টি জায়গা এখনও জ্বলছে, সেই কারণেই রবিবার তড়িঘড়ি ভিক্টোরিয়া খালি করার নির্দেশ জারি করা হয়। ভিক্টোরিয়ার ইস্ট গিপসল্যান্ড খুবই জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। উপকূলবর্তী এই এলাকায় বর্ষশেষে কমপক্ষে ৩০,০০০ পর্যটক ভিড় জমিয়েছিলেন। নির্দেশিকা জারির সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সরানো হয় স্থানীয়দেরও।

একটি শহরেই ৯০০ বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

হাওয়ার বেগ কোনও কোনও জায়গায় ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। সেটাই মঙ্গলবার থেকে আরও বাড়ার সম্ভাবনা। আর তাতেই চিন্তা বাড়ছে প্রশাসনের। ভিক্টোরিয়ার এমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট কমিশনার অ্যান্ড্রু ক্রিসপের কথায়, ‘খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতি। প্রথমে প্রশাসন জানিয়েছিল সকলে নিজের নিজের শহরেই নিরাপদ। কিন্তু পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় শহর খালি করার নির্দেশ জারি করতে বাধ্য হই আমরা। কিন্তু যাঁরা এখনও যেতে পারেননি, তাঁদের ভিক্টোরিয়া থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া সমস্যা। দাবানল যে গতিতে ছড়াচ্ছে, তাতে অধিকাংশ রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। মানুষকে নিরাপদে সরানোই এখন আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।