ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: করোনা সংক্রমণের হাত থেকে রেহাই পেল না বাঁকুড়ার অন্যতম প্রাচীণ পুর শহর বিষ্ণুপুর। এখানকার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালগঞ্জ যৌনপল্লী এলাকার এক মহিলা করোনা আক্রান্ত।

গত বুধবারই তাঁকে ওন্দা কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশে গোপালগঞ্জের ওই এলাকা কন্টেনমেন্ট জোন ও তার চারপাশে ১০০ মিটার এলাকা বাফার জোন হিসেবে চিহ্নিত করে বহিরাগত ও স্থানীয়দের প্রবেশ ও প্রস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রবেশ পথ বন্ধ করার পাশাপাশি দমকল কর্মীদের দিয়ে পুরো এলাকা স্যানিটাইজ করার কাজ করছে প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দা মথুর বাগদী বলেন, আমরা এলাকার মানুষ ভীষণ আতঙ্কে আছি। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাইকে নিয়েই আমাদের বসবাস। বাইরে থেকে এখানকার যৌনপল্লীতে যৌন কর্মীদের যাতায়াতের কারণেই এই সংক্রমণ ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।

ওখানকার এক যৌন কর্মী বলেন, ভীষণ আতঙ্কে আছি। এই অবস্থায় সরকারি সাহায্য ছাড়া তাদের পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব বলে তিনি জানান। সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলর উদয় ভকত সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই এলাকা কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানকার ৯৫ টি পরিবারের ৪৪৩ জন সদস্যের প্রত্যেকের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও সাথে কিছু নগদ টাকা তাঁরা পৌঁছে দেবেন বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, বাংলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বৃহস্পতিবারের হিসেব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ১০০০। এই প্রথমবার রাজ্যে হাজার ছাড়াল আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ১,০৮৮ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। ফলে এদিন সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত দুটিতেই রেকর্ড করল রাজ্য। তবে অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যা ৮,২৩১ জন৷

বৃহস্পতিবার রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১০৮৮ জন।ফলে এই পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫,৯১১ জনে ৷ অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের৷ ফলে এই পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮৫৪ জনে।

আক্রান্ত ও মৃতের পাশাপাশি অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। একদিনে ৫৩৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। ফলে এই পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৬,৮২৬ জন। যা শতাংশের হিসেবে ৬৪.৯৩ শতাংশ৷ গতকাল ছিল ৬৫.৬২ শতাংশ৷ যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, এদের মধ্যে কলকাতারই ১৩ জন৷ উত্তর ২৪ পরগনার ৬ জন৷ হাওড়া ৩ জন৷

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ২ জন৷ দক্ষিণ দিনাজপুর ১ জন৷ দার্জিলিং ২ জন৷ বাংলায় নতুন করে টেস্ট হয়েছে ১০,৮০৫টি৷ তবেএই পর্যন্ত মোট টেস্ট হয়েছে ৫ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩২৮ জনের৷ প্রতি মিলিয়নে টেস্ট ৬,৪৮১ জন৷ যা শতাংশের হিসেবে ৪.৪৪ শতাংশ৷ এই মুহূর্তে সরকারি এবং বেসরকারি মিলিয়ে রাজ্যে ৫২টি ল্যাবরেটরিতে করোনা টেস্ট হচ্ছে৷ আরও ২টি ল্যাবরেটরি অপেক্ষায় রয়েছে৷

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব