স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: জীবনে ফিরেছেন তাঁরা৷ সুস্থ সমাজে বাঁচার প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন পুলিশের হাত ধরে৷ সেই অবদান ভোলার নয়৷ কৃতজ্ঞতা প্রকাশে রাখি উৎসবকেই বেছে নিয়েছেন জলপাইগুড়ির অনুভব হোমের বাসিন্দারা৷

তাঁদের কেউ উদ্ধার হয়ে পাচার হয়ে যাওয়ার হাত থেকে, কেউ বা পতিতাপল্লী থেকে৷ পুলিশ কর্মীদের জন্য তাই সম্প্রীতি ভাতৃত্বের রাখি বন্ধন উৎসবের আয়োজন তাঁদের৷ তবে শুধু পুলিশ কর্মীরাই নন, তাঁদের তৈরি রাখি পরবেন সাধারণ মানুষও৷

এবার রাখি উৎসবের সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা দিবস। জোড়া সেলিব্রেশনের পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে অনুভব হোম। এখন নাওয়া খাওয়া ভুলে দিনরাত এক করে রাখি তৈরি করছেন অনুভব হোমের আবাসিকা এবং প্রশিক্ষকেরা।

প্রতিবছরই রাখি উপলক্ষ্যে বিশেষ সেলিব্রেশনের আয়োজন থাকে অনুভব হোমে। প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে রাখির আয়োজন করে থাকেন তারা। এবার আরও প্রাপ্তি ১৫ই অগাষ্ট৷ দেশের স্বাধীনতা দিবস। পরাধীন ভারতে বঙ্গভঙ্গ রোধে রাখি উৎসব পালন করেছিলেন স্বয়ং গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই থেকে ভাতৃত্বের রাখি পরিণত হয়েছিল সৌভাতৃত্বের এবং সম্প্রীতির।

এবার তাই স্বাধীনতা দিবসেই রাখি উৎসবের দিন পড়ায় এই অনুষ্ঠান অন্যমাত্রা ধারণ করেছে। রাখির দিন স্বাধীনতা, সম্প্রীতি ও সৌভাতৃত্বের ভাবনা জনমানসে তুলে ধরবেন অনেকেই। স্বাধীনতা দিবসে জেলাশাসকের দফতরে অনুষ্ঠান রয়েছে অনুভব হোমের আবাসিকাদের। সেই অনুষ্ঠান শেষে জেলাশাসক সহ বিশিষ্ট অতিথিদের হাতে রাখি পড়াবেন অনুভবের তরুনীরা। সেই জন্য এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা অনুভব হোমে। বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে তৈরি হচ্ছে রকমারি রাখি।

দিনরাত এক করে রাখি তৈরি করছেন রূপালী, পিউ (নাম পরিবর্তন করা) সহ আরও অনেকে। এখানেই তাদের থাকা খাওয়া লেখাপড়ার পাশাপাশি হাতের কাজ ও সাংস্কৃতিক বিকাশসহ নানা কাজ শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। আর সমাজের মূল স্রোতে ফিরেই নিজের হাতে রাখি তৈরি করছেন তারা। সেই রাখিই হাতে পড়বেন প্রশাসনিক আধিকারিক সহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

হোমের সুপার ডালিয়া মিত্র জানান, উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে রাখি তৈরি করছেন তাদের হোমের আবাসিকারা। বেশ কয়েকদিন থেকেই প্রস্তুতি ও রাখি তৈরি শুরু করে দিয়েছেন তারা।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV