কলকাতা: ইস্টবেঙ্গল আক্রমণভাগকে ভরসা দিতে অবশেষে শহর কলকাতায় পা রাখলেন মার্কোস জিমেনেজ দে লা এসপাদা মার্টিন। আক্রমণভাগে স্প্যানিশ এই ফুটবলারকে ইতিমধ্যেই ‘গোলমেশিন’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন লাল-হলুদ সভ্য-সমর্থকরা। রবিবার বিকেল ৪ টেয় পৌঁছনোর কথা থাকলেও মার্কোসের বিমান কলকাতার মাটি ছুঁল এদিন সন্ধে নাগাদ। মাদ্রিদ থেকে নয়াদিল্লি হয়ে কলকাতায় পা রাখলেন সিনিয়র কেরিয়ারে ৩৩৬ ম্যাচে ১১০ গোল করা এই স্প্যানিয়ার্ড।

গত মরশুমের শেষে মেক্সিকান এনরিকে এসকুয়েদার সঙ্গে চুক্তি পুনর্নবীকরনের পথে হাঁটেনি ক্লাব। জবি জাস্টিনও চলতি মরশুমে নাম লিখিয়েছেন আইএসএলে। তাই আক্রমণভাগে মার্কোসের উপস্থিতি ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ লাল-হলুদের জন্য। কারণ পজিটিভ স্ট্রাইকারের অভাবে আপাতত হাইমে কোলাডো ও স্বদেশী বিদ্যাসাগর সিং’কে আপফ্রন্টে ব্যবহার করে চলেছেন কোচ আলেজান্দ্রো। ডুরান্ডের তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করে বিদ্যাসাগর আস্থা অর্জন করে নিলেও রোজ-রোজ সফল হবেন না তিনি। তাই মার্কোসের অন্তর্ভুক্তিতে আক্রমণভাগে ইস্টবেঙ্গলের শক্তি অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অগাস্টের মাঝামাঝি শহরে পা রাখার কথা থাকলেও ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কলকাতায় পা রাখতে বেশ কিছুটা দেরি হল মার্কোসের। সইসাবুদ পর্ব সেরে নিয়ে নয়া বিদেশি ফরোয়ার্ডকে তাই কলকাতা লিগে তড়িঘড়ি মাঠে নামাতে প্রস্তুত ক্লাব। তবে দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি এদিন মার্কোসের চোখে-মুখে ছিল স্পষ্ট। জানালেন, ‘ইস্টবেঙ্গল ঐতিহ্যশালী ক্লাব। দর্শক উন্মাদনা নিয়ে ধারণা রয়েছে। আপাতত অনুশীলনে নামার অপেক্ষায়।’ এদিনও নয়া বিদেশিকে বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে ভিড় জমিয়েছিলেন সমর্থকেরা।

সিনিয়র কেরিয়ারে ৩৩৬ ম্যাচে নামের পাশে রয়েছে ১১০ গোল। ৬ ফুট ১ ইঞ্চির এসপাদা মার্টিনকে তাই ‘গোলমেশিন’ বলাটা একেবারেই অত্যুক্তি নয়। ইউথ কেরিয়ার লা সেল্লে’তে শুরু হলেও সিনিয়র কেরিয়ারে বেশিরভাগ সময়টা কাটিয়েছেন সেগুন্ডা ‘বি’ডিভিশন ক্লাবেই। তার মধ্যে ২০১২-১৬ স্পেনের জিমন্যাস্টিক ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ ১২৪ ম্যাচে ৩৯ গোল করেছেন তিনি। এছাড়াও ২০১৬-১৮ হংকং প্রিমিয়র লিগে সাদার্ন ক্লাবের হয়ে ২৮ ম্যাচে ২২ গোল রয়েছে মার্টিনের নামের পাশে। অ্যাটলেটিকো বেলেরেসের হয়ে গত মরশুমে ৩৩ ম্যাচে করেছেন ৯টি গোল।