স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: দোলের দুদিন প্রতি বছরের মতো এবারেও শুক্রবার বেলা দুটো পর্যন্ত লাইসেন্স প্রাপ্ত দোকানগুলি খোলা রাখার নির্দেশ ছিল। এদিন অর্দ্ধদিবস খোলা থাকার কারণে অন্যান্য এলাকার মত বালুরঘাট শহরের মদের দোকান গুলিতেও ভিড় ছিল প্রচুর। শহরের বিশ্বাসপাড়া মোড় এলাকার একটি দোকানের সেই ভিড় সামলানোর দায়িত্বে ছিল খোদ পুলিশ।

মদের কারণেই এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হয়। একথা সবারই জানা। শুধু তাই নয়, এবিষয়ে খোদ প্রশাসনের তরফেও চালানো হয় প্রচারাভিযান। কিন্তু সেসবই শুধু একটা নিয়ম বা বিধিনিষেধ মাত্র তা ফের স্পষ্ট হল শুক্রবার দোলের দ্বিতীয় দিনে।

এদিন বালুরঘাটের বিভিন্ন মদের দোকানে ছিল রেকর্ড বিক্রি। দোকানগুলির সামনে ছিল ক্রেতাদের নজিরবিহীন ভিড়। শুধু তাই নয় মদে আগ্রহী ক্রেতাদের ভিড় সামালোর দায়িত্ব সামলাল খোদ পুলিশ। পুলিশ রীতিমত দোকানের কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রন করল৷ মদ বিক্রির সহযোগিতায় এতটাই ব্যস্ত ছিলেন পুলিশ কর্মীরা যে মদের বোতল কিনে বাইকে বিনা হেলমেটে চালক ও আরোহীরা চলে গেলেও পুলিশের তাতে ভ্রূক্ষেপ ছিল না। যা দেখে হতবাক আশপাশের ব্যবসায়ী ও এলাকার বাসিন্দারা।

শহরের স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন চেতনামঞ্চের সম্পাদক তথা বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব জিষ্ণু নিয়োগী জানিয়েছেন যে ব্যাপারটি সত্যিই আজব লেগেছে। তিনি বলেন, পুলিশ যেখানে সবসময় মদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, পুলিশই সাধারণ মানুষকে মদ বা নেশা জাতীয় জিনিস থেকে দূরে থাকতে বিভিন্ন সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করছে। তখন সেই পুলিশই আবার কি করে মদের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে সকলকে সাহায্য করছে? তাঁর মতে মদের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে দোকানদারদের উচিত ছিল নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা।