সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: আষাঢ় মাসের অর্ধেক শেষ। বর্ষার ‘রি-এন্ট্রি’ হল দক্ষিণবঙ্গে , সঙ্গী নিম্নচাপ। নিট ফল শূন্য। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রেকর্ড বলছে জুন মাসে এত কম বৃষ্টি গত পাঁচ বছরে দেখেনি পশ্চিমবঙ্গ। ঘাটতির রেকর্ড হয়ে গিয়েছে আষাঢ় মাসে। স্বাভাবিকের চেয়ে ৫০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে বাংলায়।

ভ্যাপসা গরমে ঘামে ভিজে, বৃষ্টির অপেক্ষায় গোটা জুন মাস হাপিত্যেশ করে কাটিয়েছে বাংলা। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টিপাত হলেও, সৌভাগ্য হয়নি কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের। মাস পেরনোর পর, আবহাওয়া দফতরের তথ্যে প্রকট বৃষ্টির ঘাটতি।

গত পাঁচ বছরে জুনের বৃষ্টিতে রেকর্ড ঘাটতি রাজ্যে। ২০১৪ -২০১৮ সাল পর্যন্ত কলকাতায় জুন মাসে বৃষ্টির পরিসংখ্যান অনুযায়ী যথাক্রমে ঘাটতি ২০,১৯,৫৩,১৪ শতাংশ, গত বছর ৫১ শতাংশ বেশী বৃষ্টি হয়েছিল। হাওড়ায় ৩১,২,৪৯,২৫, ৩১ শতাংশ ঘাটতি ছিল। বীরভূমে ২০,৩,৩০,৩৮ শতাংশ ঘাটতি ছিল , এই জেলায় ২০১৫ সালে শুধু ৪৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছিল।

মুর্শিদাবাদে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল ২৩,৪০, ৪৩,৪১ শতাংশ করে, এখানেও ২০১৬ সালে শুধুমাত্র ৪৪ শতাংশ বেশী বৃষ্টি হয়েছিল। দার্জিলিংয়ে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে ৩৫,২৩ শতাংশ ঘাটতি ছিল। গত তিন বছরে বৃষ্টির ঘাটতি হয়নি। উলটে ২০১৬ তে ৫৪ শতাংশ, এবং ২০১৭ সালে স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছিল। গত বছর ঘাটতি ছিল ২২ শতাংশ।

এবার যদি এই বছরের পরিসংখ্যান দেখা যায় তাহলে তথ্য অনুযায়ী এই সময়ে সারা রাজ্যে বৃষ্টি হওয়া উচিৎ ছিল ৩২৯.৫ মিলিমিটার। সেখানে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৬৫.২ মিলিমিটার। স্বাভাবিকের চেয়ে ৫০ শতাংশ ঘাটতি জুনের বৃষ্টিতে। কলকাতায় বৃষ্টির ঘাটতি ৬৯ শতাংশ। হাওড়ায় বৃষ্টির ঘাটতি ৬৭ শতাংশ। বীরভূমে ঘাটতি বৃষ্টি ৬৯ শতাংশ। মুর্শিদাবাদে বৃষ্টির ঘাটতি ৬৮ শতাংশ।

এমনকি উত্তরবঙ্গের দার্জিলিঙেও বৃষ্টির ঘাটতি ৫৯ শতাংশ। এর জন্য দেরিতে বর্ষা ঢোকাকেই দায়ী করছেন আবহাওয়াবিদরা। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, পশ্চিমবঙ্গে এখনই বৃষ্টি বাড়বে না। জুলাইতেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম।

এদিকে বৃষ্টি কমছে, তাই মঙ্গলবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সকালেই ফের স্বাভাবিকের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। সকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি বেশী। আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৫ এবং সর্বনিম্ন ৬৭ শতাংশ।

সোমবার আলিপুর অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ২১.৯ মিলিমিটার। মঙ্গলবার যদি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয় এবং ক্রমশ তার পরিমাণ কমে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি যে চরমে পৌঁছবে তা স্পষ্ট।

গত ২৪ ঘণ্টায় আসানসোলে ৩.৮, বাঁকুড়ায় ৩.৫, ব্যারাকপুরে ০.৪, বর্ধমানে ১.২, ডায়মন্ড হারবারে ২.১, কলকাতায় ২.৭, দমদমে ৬.৭ , পুরুলিয়ায় ৪.০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মন্দের ভালো হলদিয়া, দিঘা ক্যানিং। এই অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ যথাক্রমে ১৩.৭, ৫.৩, ৮.০ মিলিমিটার।

কাঁথি, মেদিনীপুর, কৃষ্ণনগর, শ্রীনিকেতনে বৃষ্টি হয়েইনি। উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টিপাতের আশা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেই নিম্নচাপও সরে যাচ্ছে ওডিশার দিকে। তাই এখনই বৃষ্টি বাড়ার অনুকূল পরিবেশ নেই দক্ষিণবঙ্গে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প