নয়াদিল্লি: অযোধ্যা মামলায় নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটে চলেছে একের পর এক। শুনানি শেষে রায়দান ঠিক কতদিন পরে হবে তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। শনিবার দুই তরফ থেকেই নিজেদের বক্তব্য নথির আকারে জমা করা হয়। এদিন রাম লাল্লা বিরাজমানের আইনজীবীরা তাঁদের হলফনামা জমা দিয়ে বলেছেন, রাম মন্দির নির্মাণের জন্য এই বিতর্কিত জমি হস্তান্তর করা হোক তাঁদের কাছে। যার উত্তরে হিন্দু পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেয় যেখানে বাবরি মসজিদের আর অস্তিত্বই নেই সেখানে মুসলিম আবেদনকারীরা এই জমি নিয়ে কোনও দাবির অধিকারী হতে পারে না। যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আইনজীবীরা আরও জানিয়েছেন, নির্মোহী আখড়া জমিটিও দেওয়া উচিত নয় কারণ এটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল যে ভগবান রামের জন্মস্থানকে একটি আইনত সত্তা হিসাবে আদৌ বিবেচনা করা যায় কিনা। হিন্দু পক্ষ তাদের হলফনামায় বলে, ‘অযোধ্যা একটি পবিত্র স্থান এবং তীর্থস্থান। হিন্দুদের বিশ্বাস যে এখানে মন্দির বা বিগ্রহ না থাকলেও এই জায়গা সহ গোটা অযোধ্যার একটি আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে।”

হলফনামায় আরও বলা হয়েছে যে, বিতর্কিত স্থানে মসজিদ পুনর্গঠন করার দাবি একটি অযোগ্য এবং অন্যায্য দাবি এবং হিন্দু ধর্ম, ইসলামী আইন এবং ন্যায়বিচারের সমস্ত নীতিগুলির পরিপন্থী। যে অঞ্চলটি নিয়ে এই বিতর্ক সেটি এক এবং অবিভাজ্য, তাই পুরো অঞ্চলটিই রাম জন্মভূমি হিসাবে উপাসনা করার জন্য দেওয়া উচিত।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারকের সাংবিধানিক বেঞ্চ অযোধ্যা মামলায় চল্লিশ দিনের দৈনিক শুনানি শেষ করে। মনে করা হচ্ছে আগামী ১৭ নভেম্বর নিজের অবসরের আগে রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত এই মামলার রায় ঘোষণা করতে পারে সুপ্রিম কোর্ট। রায় ঘোষণার প্রত্যাশায় গত সপ্তাহ থেকেই অযোধ্যা জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।